নিউজ ডেস্ক : “উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য দেশে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার বিকাশ ঘটাতে হবে।
বিশেষ করে উগ্র মৌলবাদী-জঙ্গি গোষ্ঠীর অপতৎপরতা সম্পর্কে যুব সমাজকে সচেতন হতে হবে। ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’- এই অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে হবে। ”
আজ বুধবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) আয়োজিত যুব উদ্বুদ্ধকরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা এ আহ্বান জানান। ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা, সার্বজনীনতা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে সভাপতিত্ব করেন বিএনপিএস’র নির্বাহী পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর। বক্তব্য দেন এভারেস্ট জয়ী এম এ মুহিত, বিএনপিএস’র উপপরিচালক শাহনাজ সুমী এবং সাংবাদিক নিখিল ভদ্র। অনুষ্ঠানে সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে তরুণ সমাজের করণীয় বিষয়ে উন্নয়ন পরামর্শক ও গবেষক আজিজুর রহমান খান এবং মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িক চেতনা, ধর্ম নিরপেক্ষতা, সার্বজনীনতা, রাজনীতি, সমাজরীতি এবং ধর্মীয় বৈষম্য বিষয়ে বিএনপিএস’র প্রকল্প সমন্বয়কারী ইশরাত পারভীন ইমা আলোচনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা রোকেয়া কবীর বলেন, “লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করলেও এখনো মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারিনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। কিন্তু এখনো আমাদের সাম্প্রদায়িক সহিংতার ঘটনা ঘটছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা ঘটছে। এর বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মকে রুখে দাঁড়াতে হবে। ” ধমীয় বিভেদ ভুলে মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে যুব সমাজকে দায়িত্ব নিতে হবে। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি সংস্কৃতি চর্চা বাড়াতে হবে। দেশের ইতিহাস-ঐহিত্যকে জানতে হবে। নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ”
অনুষ্ঠানে এভারেস্ট জয়ী এম এ মুহিত বলেন, “মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের হাতে যে পতাকা তুলে দিয়েছেন তা সারা বিশ্বে তুলে ধরতে নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। ‘সবার উপরে মানুষ সত্য’- এই চেতনাকে ধারণ করে মানুষের মুক্তির জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়তে আমাদের ভালো মানুষ হতে হবে। অন্যকেও ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ”
গবেষক আজিজুর রহমান খান বলেন, “আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মধ্যে সংস্কৃতি চর্চা বাড়াতে হবে। দেশের ইতিহাস-ঐহিত্যকে জানতে হবে। নারী-পুরুষের বৈষম্য দূর করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ” দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে বেগম রোকেয়া ইয়ুথ গ্রুপ, কাজী নজরুল ইসলাম ইয়ুথ গ্রুপ, নিশাত মজুমদার ইয়ুথ গ্রুপ, নুরজাহান বেগম ইয়ুথ গ্রুপ, ওয়াসফিয়া নাজনীন ইয়ুথ গ্রুপ, সিতারা বেগম ইয়ুথ গ্রুপ, রোকেয়া কবীর ইয়ুথ গ্রুপ, সুফিয়া কামাল ইয়ুথ গ্রুপ, সাকিব আল হাসান ইয়ুথ গ্রুপ এবং শিরিন বানু মিতিল ইয়ুথ গ্রুপের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

Be the first to comment on "‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে গড়ে তুলতে হবে’"