নিউজ ডেস্ক: গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফ জয়ের সময় নাদিয়া হুসেন ভেবেছিলেন, প্রতিযোগিতার শেষ রাউন্ডের মতো দুরু দুরু উত্তেজনায় জীবনে আর কখনো পড়তে হয়নি তাকে। এক বছর না যেতেই ব্রিটিশ রানির জন্মদিনের কেক বানাতে গিয়ে নাদিয়ার সামনে ফিরে এলো তেমনই একটি দিন।
যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে দীর্ঘতম সময়ের রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ ৯০ বছর পূর্ণ করলেন বৃহস্পতিবার। জাঁকজমকের মধ্যে উইন্ডসরে পায়ে হেঁটে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে; বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক নাদিয়া হুসেনকে পাশে নিয়ে কাটলেন তার বানানো জন্মদিনের কেক।
বিবিসি নিউজবিটকে নাদিয়া বলেন, প্রথমে যখন তাকে রানির কেক বানানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়, তিনি ভেবেছিলেন ঠাট্টা। কিন্তু বৃহস্পতিবার উইন্ডসর ক্যাসলে রানির সামনে উপস্থাপনের আগ পর্যন্ত বেশিরভাগ সময় তার কেটেছে রান্নাঘরে।
রানি এলিজাবেথ নাদিয়ার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কেকে কী দেওয়া হয়েছে। উত্তরে নাদিয়া বলেন, “অরেঞ্জ ড্রিজল’।
এরপর রসিকতা করে রানি জানতে চান, এই কেক কাটবে কী না?
নার্ভাস নাদিয়ার উত্তর, “আই হোপ সো।”
রাজকীয় সোনালী আর পারপল রঙের ওই কেক যখন রানি কাটছিলেন, সবার কণ্ঠে তখন জন্মদিনের গান।
রন্ধনশিল্পী নাদিয়ার সঙ্গে হাতও মিলিয়েছেন ব্রিটেনের রানি। চেখে না দেখলেও কেকের প্রশংসায় বলেছেন, “দেখতে সুস্বাদুই মনে হচ্ছে।”
অবশ্য নাদিয়ার কেকের চেহারা সবাইকে তুষ্ট করতে পারেনি বলে মেইল অনলাইনের খবর।
টুইটারে যেসব প্রতিক্রিয়া এসেছে, তাতে ওই কেক প্রশংসা কুড়াতে পারেনি খুব বেশি।
তিন স্তরের ওই কেক দেখে পিসার হেলানো টাওয়ারের কথা মনে হয়েছে একজন টুইটার ব্যবহারকারীর। আরেকজন লিখেছেন, তিনি নাদিয়ার ভক্ত, কিন্তু কেকটা ছিল হাস্যকর।
রানির জন্মদিনের জন্য নাদিয়ার বানানো ওই কেক ‘খুব বেশি সাধারণ আর অ্যামেচার কাজ’ বলে মনে হয়েছে কারও কারও কাছে।
অবশ্য রানির কেক বানানোর সুযোগ যেহেতু বার বার আসে না, এর প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করেছেন নাদিয়া।
কেক বানাতে গিয়ে জটিলতার কথাও তিনি বলেছেন বিবিসি নিউজবিটকে।
“আমি ভেবেছিলাম কেউ আমাকে এ ব্যাপারে কোন পরামর্শ দেবে, কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। এতে কাজটা আরও কঠিন হয়েছে। অবশ্য বেশ স্বাধীনতাও পেয়েছি, সৃজনশীলতার পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল আমার হাতে।”
আটটি ভিন্ন ভিন্ন নকশা মাথায় নিয়ে কাজ শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত এই অরেঞ্জ কেক বানাতে মনস্থির করেন লুটনের বাসিন্দা নাদিয়া। তার কেকে আরও ছিল ভ্যানিলা স্বাদের মাখনের পুর আর কমলার মোরব্বা।
বানানোর পর ওই কেক নিজের হাতে রানির প্রাসাদে নেওয়ার সাহস হয়নি নাদিয়ার। শেষ পর্যন্ত এক কুরিয়ার কোম্পানির সহযোগিতা নেন।
“গাড়িতে করে কীভাবে নেব ভাবতেই অস্থির লাগছিল,” বলেন নাদিয়া।
রঙ আর নকশার জন্য কেকের সমালোচনা শুনে রসিকতা করে তিন সন্তানের এই জননী বলেন, “আমি একজন শিক্ষানবিস রাঁধুনি। তবে কোনো কিছুই পল হলিউডের (গ্রেট ব্রিটিশ বেক অফপ্রতিযোগিতার বিচারক) গোমড়া মুখের চেয়ে ভীতিকর হতে পারে না, তাই না?”

Be the first to comment on "কেমন হলো নাদিয়ার কেক?"