শিরোনাম

গুলশানে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিতের দাবি

নিউজ ডেস্ক: হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার প্রভাবে মন্দার মধ‌্যে গুলশানে চলমান উচ্ছেদ অভিযান ব‌্যবসায়ীদের আরও বিপাকে ফেলেছে দাবি করে তা আপাতত বন্ধ রাখার দাবি উঠেছে।

রোববার মতিঝিলে এক মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন ব‌্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষে এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ এই দাবি তুলে ধরেন।

আবাসিক এলাকায় বাণিজ‌্যিক স্থাপনার কারণে সৃষ্ট সমস‌্যা সমাধানে এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব‌্যবসায়ী সংগঠনগুলো আয়োজিত এই সভায় পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ব‌্যবসায়ীদের উদ‌্যোগ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আসার পরামর্শ দেন।

গত ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশি নিহত হওয়ার পর আবাসিক এলাকায় বাণিজ‌্যিক স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান জোরদার করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউক।

এতে অনেক হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ হচ্ছে, যেগুলোতে মূলত বিদেশিরাই যেতেন।

ওই হামলার পর বিদেশিদের আসা কমে যাওয়ার পাশাপাশি উচ্ছেদ অভিযানের কারণে আরও ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে ব‌্যবসায়ীদের অভিযোগ।

এই পরিস্থিতিতে রোববার এফবিসিসিআইর সম্মেলন কক্ষে হোটেল-গেস্টহাউস এন্ড রেস্টুরেন্টস ওনার্স অ‌্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ এবং ট্যুর অপারেটরস অ‌্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (টোয়াব) মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

সভায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট এই ব‌্যবসায়ীরা বলেন, হোটেল-মোটেল তুলে দেওয়া হলে বিদেশি অতিথিদের থাকার সঙ্কট হবে এবং যার প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়বে।

তারা সরকারের কাছে গুলশান-বনানীসহ বিভিন্ন এলাকায় চলমান উচ্ছেদ অভিযান স্থগিতের দাবি জানান।

টোয়াব সভাপতি তৌফিক উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সভায় সংগঠনটির পরিচালক তৌফিক রহমান, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি হোসেন খালেদ, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর উপস্থিত ছিলেন।

সবার পক্ষে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মাতলুব আহমাদ একটি ঘোষণাপত্র ও দাবিনামা সরকারের সামনে তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “উচ্ছেদ অভিযানের ফলে উদ্ভূত সমস্যাগুলোর স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধানকরণে আমরা এফবিসিসিআইয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠন করে বর্তমান নীতিমালা ও আইনের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের ভিত্তিতে সকল স্টেক হোল্ডারের স্বার্থ রক্ষা করে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান করব।”

মন্ত্রী মেনন বলেন, “গুলশান, বারিধারা, বনানীর হোটেল রেস্টুরেন্ট প্রসঙ্গে যেই কথাটা এসেছে, সেটা কিন্তু নতুন কিছু নয়। জঙ্গি আক্রমণকে কেন্দ্র করে এটা হয়েছে, তাও কিন্তু নয়। এটার ডিসিশন কেবিনেটে হয়েছে আজ থেকে দেড় বছর আগে।

“এটা কিন্তু ধাপে ধাপে সমাধানের কথা ছিল। এখানে যারা উপস্থিত আছেন, তাদের অনেকের সঙ্গে সভা করে কথা হয়েছিল। আগে থেকে এগুলো করা হলে হঠাৎ করে উচ্ছেদ আতঙ্কে পড়তে হত না।”

তবে এনিয়ে আলেচনার সুযোগ রয়েছে মন্তব‌্য করে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, আপনারা যদি আলোচনার মধ্য দিয়ে বিষয়টাকে নিয়ে আসেন, সেটা সম্ভব। একটা কমিটি করে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে যদি কথা বলেন, তাহলে নিশ্চয়ই সমাধান হবে।”

সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার যে নেতিবাচক প্রভাব পর্যটনে পড়েছে, তা থেকে উত্তরণের পথ বের করতে এই খাতের অংশীদারদের নিয়ে বৈঠক করবেন বলে জানান মেনন।

“বিদেশেও কিন্তু এমন ঘটনা ঘটছে, এর চেয়ে বড় ঘটনা ঘটছে। যেহেতু আমরা ছোট দেশ, আমাদের সম্পর্কে ভিন্ন ধারণা পোষণ করা হচ্ছে। আমাদের উপর কিছু বিষয় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।”

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান খান কবির, বাংলাদেশ এমপ্লয়িজ অ‌্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট গোলাম মাইনউদ্দিন, সুশাসনের জন্য বাংলাদেশ-সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, সিপিডির গবেষক মোয়াজ্জেম হোসেনও বক্তব্য রাখেন।

basic-bank

Be the first to comment on "গুলশানে উচ্ছেদ অভিযান স্থগিতের দাবি"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*