নিউজ ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার একটি বিমানবন্দরে দুটি বিমানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি বিমানের পাখা বিস্ফোরিত হয়ে তাতে আগুন ধরে যায়। গতকাল সোমবার রাতে জাকার্তার হালিম পেরদানাকুসুমা বিমানবন্দরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। প্রধানত অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনকারী বিমানবন্দরটি দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য বন্ধ থাকে। বাটিক এয়ারের একটি যাত্রীবাহী বিমান উড্ডয়নের সময় ঘটনাটি ঘটে। রানওয়ে ধরে দ্রুত এগোতে থাকা বিমানটির একটি ডানা ট্রান্সনুসার একটি বিমানের লেজের সঙ্গে আটকে যায়।
ট্রান্সনুসার বিমানটিকে রানওয়ে দিয়ে টেনে নিয়ে বাটিক এয়ারের বিমানটি উড্ডয়নের জন্য দ্রুত এগিয়ে যেতে থাকে। এরই এক পর্যায়ে বাটিক এয়ারের বিমানের পাইলট উড্ডয়ন পরিকল্পনা বাদ দিয়ে বিমানটি থামিয়ে দিলে বড় ধরনের একটি দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। লায়ন এয়ার গ্রুপের (এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বাটিক এয়ার) এক মুখপাত্র বার্তা সংস্থা ওয়্যার নিউজ এজেন্সিকে জানান, তাদের বিমানের যাত্রী ও ক্রু-রা নিরাপদ আছেন। যাত্রীবাহী বিমানটি থামানোর সঙ্গে সঙ্গেই সব যাত্রীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
বিমানটিতে যাত্রী ও ক্রুসহ মোট ৪৯ জন আরোহী ছিলেন। ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জানান, সংঘর্ষে দুটি বিমান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনলাইনে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে বাটিক এয়ারের বিমানটির ডানা থেকে আগুনের শিখা উঠতে দেখা গেছে। ইন্দোনেশিয়ায় বিমানযোগে ভ্রমণ অনেক বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার সংখ্যাও বেড়েছে। বিশেষ করে দেশটিতে বিমানযোগে মালামাল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
২০১৩ সালে বালির দেনপাসার বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের সময় লায়ন এয়ারের একটি বিমান রানওয়ে থেকে ছিটকে সাগরে গিয়ে পড়েছিল। ওই ঘটনায় ২২ জন আহত হন। ২০১৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার এয়ারএশিয়ার একটি বিমান দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সুরাবায়া থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার সময় ঝড়বৃষ্টির কবলে পড়ে সাগরে বিধ্বস্ত হয়। এতে বিমানটির ১৬২ জন আরোহীর সবাই মারা যান।

Be the first to comment on "জাকার্তা বিমানবন্দরে দুটি বিমানের সংঘর্ষ"