নিউজ ডেস্ক: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে সহায়তা ও তদারকি করতে ঢাকা থেকে আসা উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত সহায়ক দল অনুসন্ধান শেষ করে রোববার সন্ধ্যায় কুমিল্লা ত্যাগ করেছেন।
কুমিল্লা ত্যাগের আগে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সন্ধ্যায় তারা সর্বশেষ বৈঠকে মিলিত হন। ওই বৈঠকে কি আলোচনা হয়েছে তা জানা না গেলেও ‘তদন্তে সিআইডি শেষ পর্যায়ে রয়েছে, যে কোনো সময়ই একটি সুখবর আসবে’ এমন ইঙ্গিতই করেছেন সিআইডির একাধিক সূত্র।
গত বৃহস্পতিবার তদন্ত সহায়ক দলের প্রধান ঢাকা সিআইডির সিনিয়র পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কুমিল্লায় আসেন। সর্বশেষ রোববার কুমিল্লায় আসেন সিআইডির ডিআইজি (ক্রাইম-ইস্ট) মো. মাহবুব মোহসিনের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের আরও একটি প্রতিনিধি দল। ঢাকায় ফিরে যাওয়ার আগে সিআইডির উচ্চ পর্যায়ের এ দলের জিজ্ঞাসাবাদে তালিকায় সর্বশেষ ছিলেন কুমেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা এবং প্রথম ময়নাতদন্তকারী ডা. শারমিন সুলতানা।
এর আগে রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিআইডির ডিআইজি (ক্রাইম-ইস্ট) মো. মাহবুব মোহসিনের নেতৃত্বে কুমিল্লা সেনানিবাসে প্রবেশ করে সিআইডির একটি দল। এ সময় তারা কুমিল্লা সেনানিবাসের ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের এরিয়া কমান্ডার ও জিওসি মেজর জেনারেল মো. এনায়েত উল্লাহ ও স্টেশন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল কাজী শওকত আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এছাড়াও এ দলটি তনু যে দুটি পরিবারে প্রাইভেট পড়াতো সেখানে যান। পরে দুপুর আড়াইটার দিকে সিআইডির দলটি তনুর সেনানিবাসের বাসায় গিয়ে তনুর বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানান। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল আজাদ, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান, এএসপি মোজাম্মেল হক, এএসপি জালাল উদ্দিন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজী ইব্রাহিমসহ সিআইডি ঢাকা ও কুমিল্লার অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
ময়নাতদন্ত নিয়ে দু’ ডাক্তার যা বললেন
এদিকে বিকালে সিআইডি তনুর ২য় ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক বোর্ডের প্রধান ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ডা. কামদা প্রসাদ সাহা ও প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা.শারমিন সুলতানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
সিআইডি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ডা. কামদা প্রসাদ সাহা জানান, সিআইডি দল তনুর মৃত্যুর কারণ, ধর্ষণের আলামত, লাশের কি অবস্থা ছিল, রিপোর্টে কি লিখা আছে, এসব বিষয়ে জানতে চেয়েছে।
এছাড়াও ময়নাতদন্তের প্রথম রিপোর্ট নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের প্রশ্ন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসতে আরও কিছু সময় লাগবে। কোনো চাপের মুখে ধর্ষণের আলামত নষ্ট করা হয়েছে কিনা? প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা.শারমিন সুলতানাকে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো চাপের মুখে ধর্ষণের আলামত নষ্ট করিনি, যথাযথ নিয়ম অনুসারে রিপোর্ট দিয়েছি।’
তদন্তে কি পেলেন উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দল ?
টানা ৪ দিন সিআইডির উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত সহায়ক টিম কুমিল্লায় তনু হত্যার রহস্য কতটুকু উদঘাটন করতে পারলেন ? কিংবা আদৌ রহস্য বের হবে কিনা ? ঘাতক কারা ? কখন প্রকাশ করা হবে তাদের নাম ? মিডিয়া কর্মী থেকে শুরু করে তনুর স্বজন, সহপাঠী ও সাধারণ লোকজনের মাঝে গত কয়েক দিন ছিল এমনই প্রশ্ন।
তবে সিআইডির একাধিক সূত্র জানায়, ‘এরই মধ্যে সন্দেহবাজন কিছু ব্যক্তির কল লিস্টের সূত্র ধরে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়েছে। শিগগিরই এ মামলার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে।’
তদন্ত দল এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার থেকে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেনাসদস্য, ডাক্তার, তনুর বাবা, মা, ছোট ভাই, চাচাতো বোন লাইজী, তনুর বান্ধবী মনিষা, তার মা, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও কর্মচারী ইসমাইলসহ অন্তত ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদন্তে অগ্রগতি কতটুকু ? সিআইডি কার্যালয়ের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্ন ডিআইজি এড়িয়ে গেলেও কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা থেকে আসা তদন্ত সহায়ক দলের প্রচেষ্টায় আমরা মামলার তদন্তে অনেক দূর যেতে পেরিছি। আশা করি খুব শিগগিরই এ মামলার একটি সুখবর দিয়ে মামলাটির একটি কিনারা বের করতে পারবো।’
উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসের বাসার অদূরে তনুর মরদেহ পাওয়া যায়। পুলিশ ও ডিবির পর এখন মামলাটি তদন্ত করছেন সিআইডি কুমিল্লার পরিদর্শক গাজী মো. ইব্রাহিম। কিন্তু হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৩ সপ্তাহেও এখনও হত্যার মোটিভ বের করতে পারেনি পুলিশ, ডিবি, র্যাব, সিআইডি, পিবিআইসহ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা।

Be the first to comment on "`তনু হত্যার রহস্য শিগগিরই উদঘাটন`"