শিরোনাম

দিঘার ঝাউবনে মিলল যুবতীর দেহ, ধর্ষণের পর খুন? তদন্তে পুলিশ

নিউজ ডেস্ক : দূর থেকে বালির মধ্যে এক যুবতীকে শুয়ে থাকতে দেখে খটকা লেগেছিল তাঁদের। কৌতূহলের বশে এগিয়ে গিয়েই আঁতকে ওঠেন তাঁরা। গাঢ় নীল রঙের সালোয়ার পরা ওই যুবতীর পোশাক ছিল এলোমেলো। কোমর থেকে প্যান্টটা অনেকটাই নীচে নামানো। সালোয়ারও উপরে দিকে অনেকটা উঠে। গলায় শক্ত করে বাঁধা ওড়নার ফাঁস। চোখ-মুখ-ঠোঁটের চারপাশ ফুলে কালো হয়ে গিয়েছে। দেহের বিভিন্ন জায়গা থেকে রক্ত ক্ষরণের চিহ্নও স্পষ্ট। শুক্রবার ভোরে মাছ ধরতে যাওয়ার সময় নিউ দিঘার মাইতি ঘাটের কাছে ঝাউবনে এমন দৃশ্য দেখে আঁতকে ওঠেন জনাকয়েক মৎস্যজীবী। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। ওই যুবতীর পরিচয় জানা যায়নি। তবে স্থানীয় কেউ নন বলেই জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, যে ভাবে তাঁর চোখ এবং ঠোঁটের চারপাশ ফুলে গিয়ে কালশিটে পড়ে গিয়েছে তাতে অনুমান করা যায় শ্বাসরোধের ফলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তার উপরে যুবতীর এলোমেলো পোশাক দেখে ধর্ষণের বিষয়টিও মাথায় রাখছে পুলিশ। পুলিশের অনুমান, ধর্ষণের পর বিষয়টি যাতে জানাজানি না হয় তার জন্য ওড়না দিয়ে যুবতীর গলা চেপে ধরা হয়। যার ফলে শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান তিনি। তবে তাঁকে এই ঝাউবনের মধ্যেই খুন করা হয়েছে নাকি অন্য কোথাও খুন করে এখানে ফেলে দিয়ে গিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে এবং তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না জানতে মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।
কী ঘটেছিল এ দিন?
এ দিন ভোরে রোজকারের মতো কয়েকজন মৎস্যজীবী মাছ ধরতে সমুদ্রে যাচ্ছিলেন। নিউ দিঘার মাইতি ঘাটের কাছে ঝাউবনের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময়ই তাঁদের চোখে পড়ে দূরে বালির মধ্যে গাঢ় নীল রঙের কিছু পড়ে রয়েছে। একটু কাছে যেতেই বুঝতে পারেন সেটি এক যুবতীর দেহ। যাঁর সারা দেহ বালি আর রক্তে মাখামাখি। সঙ্গে সঙ্গে ফিরে গিয়ে থানায় বিষয়টি জানান তাঁরা। পুলিশ জানিয়েছে, রাত হয়ে গেলে এই এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। মাঝরাতে ঘটনাটি ঘটায় তাই প্রত্যক্ষদর্শীর সন্ধান মেলেনি। তাই কে বা কারা এই ঘটনায় যুক্ত তা এখনও জানা যায়নি। তবে যে ভাবে তাঁকে খুন করা হয়েছে তা দেখে পুলিশের অনুমান এটা কোনও একজনের কাজ নয়। ওই যুবতী দিঘায় ঘুরতে এসেছিলেন নাকি আশেপাশের গ্রামের বাসিন্দা তার খোঁজ চলছে। পর্যটক হলে নিশ্চয়ই কোনও হোটেলে উঠবেন। তাই দিঘার সমস্ত হোটেলগুলিতেও খোঁজ নিতে শুরু করেছে পুলিশ।

সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

basic-bank

Be the first to comment on "দিঘার ঝাউবনে মিলল যুবতীর দেহ, ধর্ষণের পর খুন? তদন্তে পুলিশ"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*