নিউজ ডেস্ক : তাঁকে নিয়ে দেদার মশকরা করেছে নেটদুনিয়া। ব্যাংকের কাউন্টারে বসে কাজ করছিলেন তিনি। সে ভিডিও ব্যাপক ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে। তাঁর ধীরগতির কাজ দেখে জমা পড়েছিল বহু মন্তব্য। চলছিল দেদার মজা, মশকরা। কিন্তু সে সবের আসল কারণ জানার পর থেকেই অপরাধবোধে ভুগছে নেটদুনিয়া।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ধীরগতির কাজের ছবির ভিডিও দিয়েছিলেন এক ব্যক্তি। ব্যাংক অফ মহারাষ্ট্র-এর পুণে শাখায় কাজ করেন প্রেমলতা শিণ্ডে নামে ওই নারী। কাউন্টারে বসে অত্যন্ত ধীর গতিতে তাঁর কাজের সে ভিডিও দেখেছেন লক্ষাধিক মানুষ। সামগ্রিকভাবে ব্যাংকে কত ধীর গতিতে কাজ হয় তারই যেন প্রতিনিধি হয়ে উঠেছিলেন তিনি। আর তাই মন্তব্যের পর মন্তব্য জমা পড়ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার হাওয়ায় তাঁর সম্পর্কে একটা ধারণা তৈরিই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সেটা ভাঙলেন এক কুন্দন শ্রীবাস্তব নামে এক সমাজকর্মী। ওই নারীর গল্প তিনি পোস্ট করা মাত্র অপরাধবোধে ভুগছে সকলে। কী সেই নেপথ্য কাহিনি? জানা যাচ্ছে, নারী তাঁর স্বামীকে হারিয়েছেন বেশ কয়েকবছর আগেই। একমাত্র সন্তান থাকে বিদেশে। চাকরি করা ছাড়া তাঁর কোনও উপায়ও নেই। এর মধ্যেই দু’বার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে তাঁর। প্যারালাইটিক স্ট্রোকও হয়েছিল। সে সবের পরে কাজ করা প্রায় অসম্ভব ছিল। তবে মনের জোরে আর প্রয়োজনের খাতিরেই তিনি ফের নিজের কর্মক্ষেত্রে ফিরে এসেছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানও তাঁর এই নিষ্ঠাকে সম্মান জানিয়ে তাঁকে পুনরায় কাজে বহাল করেছে। সমস্ত শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও সাধ্যমতো পরিষেবা দেয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। আর তা না জেনেই তাঁকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে অসংখ্য মানুষ। এ কথা জানার পরই অপরাধবোধে ভুগছে নেটদুনিয়া।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও যেমন একদিক থেকে অনেক ভালো কাজে লাগছে, তেমন অনেককে অকারণে ভিক্টিমও বানিয়েও তুলছে। এই নারীর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। যেমন শুধু প্রচ্ছদ দেখে কোনো বই সম্পর্কে ধারণা গড়ে তোলা উচিত নয়, সে নিয়ম যেন সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রেও খাটে। এখন সে কথাই হাড়ে হাড়ে বুঝছেন নেটিজেনরা।
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন

Be the first to comment on "নারী ক্যাশিয়ারকে নিয়ে মশকরা"