শিরোনাম

পাটখড়ি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা!

নিউজ ডেস্ক : পাটখড়ি থেকেই এখন আসছে বৈদেশিক মুদ্রা।
এর থেকে কার্বন বা চারকোল তৈরির জন্য দেশে এখন গড়ে উঠেছে প্রায় ২৫ টি কারখানা। এর মধ্যে দুটি পাবনায়। গত চারমাসে কারখানা দুটি স্থানীয় বাণিজ্যে সৃষ্টি করেছে নতুন দিগন্ত। সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থানও।ঘরের বেড়া কিংবা জ্বালানী ছাড়া কি বা কাজে লাগে পাটখড়ি? কিন্তু সেই পাটখড়ি থেকেই যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব, কদিন আগেও একথা জানা ছিলনা কারো।
পাটখড়ি থেকে তৈরি কার্বন পাউডার বা চারকোল এখন রপ্তানি হচ্ছে চীনে। চারবছর আগে কার্বন তৈরির এ পথ দেখান চীনা নাগরিক ওয়াং ফেই। তার দেখানো পথেই দেশে এখন গড়ে উঠেছে ২৫ টি কার্বন তৈরির কারখানা। এরমধ্যে পাবনার আটঘড়িয়া ও বেড়া উপজেলায় রয়েছে এস জে জে জয়েন্ট কোম্পানির দুটি কারখানা।গত মে মাস থেকে পরীক্ষামূলক উৎপাদনে গেছে এই কোম্পানি। বিশেষ চুল্লিতে প্রতিদিন তারা তৈরি করছে প্রায় সাড়ে তিন টন কার্বন। মোবাইলের ব্যাটারি, প্রসাধনী, দাঁত পরিস্কারের ওষুধ, কম্পিউটার ও ফটোকপির কালিসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে এই পাটখড়ির কার্বন।এস জে জে জয়েন্ট কোম্পানির ম্যানেজার মো. ওয়াহেদুজ্জামান বলেন, ‘চুলায় লোড করার পরে তাতে আগুন দেয়া হয়। আগুন দিয়ে ১০-১২ ঘন্টা রাখার পরে চুলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। যাতে চুলার ভেতরে কোন প্রকারে অক্সিজেন যেতে না পারে। এভাবে ৪ দিন রাখার পরে কার্বনে পরিণত হয়’।
ছোট পরিসরে শুরু হলেও আগামীতে এর পরিসর বাড়বে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।জেলার ব্যবসায়ী নেতারা মনে করেন, পাটখড়ি থেকে কার্বন তৈরির মাধ্যমে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের এক নতুন দিগন্তের শুরু হবে।পাবনা চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সহা-সভাপতি মাহবুব উল-আলম মুকুল বলেন, ‘এদেরকে সরকার পৃষ্ঠপোশকতা করলে এই ধরনের কোম্পানি বাংলাদেশে আরও গড়ে উঠবে। একদিকে যেমন বৈদশিক মুদ্রা আয় হবে, পাশাপাশি অর্থনীতিতে নতুন ছোঁয়া লাগবে’।দেশে মোট উৎপাদিত পাটখড়ি থেকে বছরে প্রায় আড়াই লাখ টন কার্বন তৈরি সম্ভব। যা থেকে রপ্তানি আয় আসবে প্রায় ৩২ কোটি ডলার। আর কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে অন্তত ২০ লাখ মানুষের।

basic-bank

Be the first to comment on "পাটখড়ি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সম্ভাবনা!"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*