নিউজ ডেস্ক : নিয়োগে বয়সসীমা বাতিল ও অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিভিন্ন পদে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। আজ সকাল সাড়ে ৮টা ও ১০টার পরীক্ষা নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করে দেয় মহানগর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, মহানগর ও রাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় পরীক্ষার্থী-শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়োগ পরীক্ষায় প্রার্থীদের বয়সসীমা ১৮ থেকে ৩০ এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য সর্বোচ্চ ৩২ বছর নির্ধারিত ছিল। এই বয়সসীমা উঠিয়ে দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানান নেতাকর্মীরা। এর আগে ২১ ডিসেম্বর বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়া ও মালি পদের নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করে দেয় আওয়ামী লীগ। সকাল ৮টার পরীক্ষায় বিবিলওগ্রাফার কাম রেফারেন্স সহকারী দুজন ও ক্যাটালগার একজনের পদের বিপরীতে মোট ৭০ জন অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা দিতে ঢুকলেও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু ও মতিহার থানার সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিনের নেতেৃত্বে নেতাকর্মীরা পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে পরীক্ষার্থীদের বের করে দেয়। অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, কাজলা ফটক, বিনোদপুর ফটকে মহানগর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে পরীক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেন। এ সময় পরীক্ষার্থীদের ধাওয়া, অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে তারা। বেশ কিছু পরীক্ষার্থীর প্রবেশপত্রও ছিঁড়ে ফেলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়োগ না দিয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের চাকরি দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাই আমরা এই নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের সঙ্গে আলোচনায় আসতে হবে, নয়ত আন্দোলন চলবে। ‘ ১০-১১টায় ডেটা অ্যান্ট্রি অপারেটরে ২০ পদের বিপরীতে ৩১০০ জনের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বাধার মুখে তারা পরীক্ষা দিতে ঢুকতেই পারেনি। তবে আগে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলে অবস্থান নেওয়া পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্রের কাছে গেলে তাদেরকেও তাড়িয়ে দেওয়া হয়। এদিকে ক্যাম্পাসের কাজলা গেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ বিকেল ৩-৪টায় গ্রন্থাগার সহকারী ৪ পদের বিপরীতে ১৫০ জনের পরীক্ষা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মুজিবুল হক আজাদ খান বলেন, ”একদল যুবক শ্রেণির মানুষ যারা ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে এসেছে। এসে সকাল সাড়ে ৮টার পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে। তাতে বোঝা যায় যে, আওয়ামী লীগের লোকজনই বন্ধ করে দিয়েছে। তবে আমরা পরীক্ষা নেওয়ার চেষ্টা করে যাব। এ জন্য আমরা পুলিশ প্রশাসনের সাহায্য চেয়েছি। ” তবে পরীক্ষার্থীদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ”ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি খারাপের সংবাদ শুনে আমরা সকালে যাই। পরিস্থিতি যেন খারাপ না হয় সে জন্য আমরা কিছু পদক্ষেপ নিয়েছি। তবে কোনো পরীক্ষার্থীকে বের করে দিইনি। এখন আমরা চলে এসেছি। ” উপ-উপাচার্যকে প্রাণনাশের হুমকি এদিকে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করতে গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে উপ-উপাচার্য এবং আইসিটি সেন্টারের প্রশাসককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ”রাজশাহী নগরীর টিকাপাড়ায় আমার বাড়িতে গিয়ে ৫০-৬০ জনের একটি দল আজকের পরীক্ষা বন্ধ করতে বলে। না করলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা। ” আইসিটি সেন্টারের প্রশাসককে খাদেমুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ”মোটরসাইকেলে করে ১০-১২ জন আমার বাড়িতে এসে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে গেছে। তবে তাদেরকে চিনতে পারিনি। ”
রাবিতে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করল সরকার দলের নেতাকর্মীরা

Be the first to comment on "রাবিতে নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ করল সরকার দলের নেতাকর্মীরা"