নিউজ ডেস্ক – নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কালিশংকরপুর নামক স্থানের যাত্রার মাঠ থেকে ফিরে : উপজেলার লাহুড়িয়া ইউ’পির সীমান্তবর্তী এগারনলী গ্রামের তৈলক্ষপাড়ার সন্নিকটে কালিশংকরপুর গ্রামের মধুমতি নদীর তীরবর্তী চরে চলছে যাত্রার নামে বছর ব্যাপী জুয়ার আসর, অশ্লীল ও বিবস্ত্র নগ্ন নৃত্য এবং জমজমাট মাদক ব্যবসা। প্রশাসনের নজর দারীর অভাবে যাত্রার নামে এহেন অপকর্ম চললেও প্রশাসন রয়েছে নির্বিকার। ফলে, ওই এলাকাসহ আশে পাশের এলাকা গুলোতে চুরি, ডাকাতি,ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেই চলেছে।
লাহুড়িয়া ইউ’পির চিহ্নিত জুয়াড়ী ও হত্যা মামলার আসামী কবির মোল্লার ছেলে হাবিব মোল্লার নেতৃত্বে বাচ্চু,বিজিবি সদস্য (অব:) আকবর হোসেন,নূর ইসলাম ও মিন্টু, আলফাডাঙ্গা উপজেলার জনৈক ব্যাক্তির রেকর্ডীয় পৈতৃক বসত বাড়ি মধুমতি নদী গর্ভে বিলীন হওয়া ৯০ শতাংশ জমি জোর পূর্বক দখল করে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতি যাত্রা পালার অন্তরালে চালিয়ে যাচ্ছে জুয়ার আসর,বস্ত্রহীন নগ্ন নৃত্য, মাদক ও দেহ ব্যবসা। জুয়াড়ী ও মাদক ব্যবসায়ীরা হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। যুবসমাজ সহ নিঃস্ব হচ্ছে সাধারন মানুষেরা।
ওই স্থানটি নড়াইলের লোহাগড়া,মাগুরার মোহাম্মদপুর,ও ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার প্রায় শুন্য পয়েন্টে অবস্থিত হওয়ায় ‘নিরাপদ এলাকা’ হিসেবে লাহুড়িয়া এলাকার চিহ্নিত জুয়াড়ীরা এ স্থানটি বেছে নিয়েছে। জুয়াড়ী ও হত্যা মামলার আসামী কবির মোল্লার ছেলে হাবিব মোল্লার নেতৃত্বে বাচ্চু, বিজিবি আকবর ও নূর-ইসলাম সহ ১০/১২ জন জুয়াড়ী বছর ব্যাপি নির্বিঘেœ চালিয়ে যাচ্ছে এহেন অসামাজিক ও অনৈতিক কর্মকান্ড। বিনিময়ে তারা হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। ফলে চরম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে স্থানীয় যুবসমাজ ও প্রাইমারী,মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
শুধু তাই নয়, যাত্রা প্যান্ডেলে কোন বেষ্টনী না থাকায় দেখা মেলে অসংখ্য শিশু কিশোরদের, যাদের প্রাইমারীও শেষ হয়নি। প্যান্ডেলের পাশেই ছয় গুটির দুইটি জুয়ার বোর্ড ও চরকি বোর্ড এবং তাসের জমজমাট জুয়ার আসর। ছয় গুটির জুয়ার বোর্ডে ৫শ টাকা থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকার জুয়া খেলা চলছে। চরকি বোর্ডে ৫ টাকা থেকে শুরু করে ১শ টাকা পর্যন্ত জুয়া খেলা চলছে। সন্ধ্যার পর পরই ওই এলাকা ও এলাকার বাইরের কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী যাত্রা প্যান্ডেলের পাশে অবস্থান করে মাদক বিক্রির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাত ১২টা নাগাদ শুরু হয় কাঙ্খিত যাত্রা পালা। রাত যত গভীর হয় ততই বেড়ে যায় যাত্রার নামে বেহেল্লেপনা! ভোর পর্যন্ত চলে বিবস্ত্র নগ্ন নৃত্য এবং যুবতী মেয়েদের শরীর প্রদর্শনী ! এ আসরে অর্থের বিনিময়ে কৌশলে যুবতী মেয়েদের সাথে দেহ ভোগের ব্যবস্থাও করেছে আয়োজকেরা। প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে যাত্রার নামে দীর্ঘদিন ধরে জুয়ার আসর ও মাদক ব্যবসা চলছে। স্থানটি ঢাকা বিভাগের ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার ভূখন্ডে অবস্থিত হলেও নদী সীমারেখা অনুসারে খুলনা বিভাগে হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় মানুষেরা যাত্রার নামে এহেন বিবস্ত্র নগ্নতা, জুয়া ও মাদক ব্যবসা বন্ধে লোহাগড়া, মোহাম্মদপুর,ও আলফাডাঙ্গা উপজেলার স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি’র আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
লোহাগড়ার অদুরে ॥ যাত্রার নামে বিবস্ত্র নগ্নতা
লাল চিহ্নিত যাত্রার নামে বিবস্ত্র নগ্নতার স্থান
Be the first to comment on "লোহাগড়ার অদুরে ॥ যাত্রার নামে বিবস্ত্র নগ্নতা"