নিউজ ডেস্ক:মাত্র চার বছরের বয়সে বার্ধক্যে নুয়ে পড়া মাগুরার শিশু বায়েজিদ সিকদারকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে তাকে সেখানে নেয়া হয়। বার্ন এ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডাঃ আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ভর্তির পরপরই তার শরীরের পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
প্রফেসর আব্দুল কালাম আজাদ জানান,‘শিশু বায়েজদের শারীরিক গঠন দেখে অনেকে ধারণা করবে তার বয়স অনেক বেশি। কিন্তু তার বয়স মাত্র চার বছর। এরইমধ্যে সে বৃদ্ধ শিশু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। আমরা চেষ্টা করব দ্রুত একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে তার শারীরিক সমস্যা নির্ণয় করে ব্যবস্থা নেয়া। এরপর তার প্রকৃত রোগটি কি জানানো হবে।
জানা গেছে, মাগুরা জেলার মহাম্মদপুর উপজেলার খালিয়া গ্রামের লাভলু সিকদারের ছেলে বায়েজিদের জন্ম ২০১২ সালের ১৪ই মে। সে হিসেবে তার বয়স চার বছরের কিছু বেশি। কিন্তু বায়োজিদ সিকদারের দিকে তাকালে চমকে উঠবেন যে কেউ। তার চার বছরের ছোট্ট দেহটার ওপর কেউ যেন বসিয়ে দিয়েছে আশি বছরের বৃদ্ধের মুখ। চাহনি, অঙ্গভঙ্গিও অনেকটা বৃদ্ধ মানুষের মতো। শরীর কুঁজো হয়েছে গেছে। ঝুলে পড়েছে শরীরের চামড়া।
ডাক্তারদের ধারণা, অত্যন্ত বিরল জটিল কোন জেনেটিক রোগে আক্রান্ত বায়োজিদ। এ ধরনের বিরল ‘জেনেটিক ডিজঅর্ডারে’ আক্রান্ত আরও একশ’র বেশি শিশু আছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ডাক্তারি ভাষায় এর নাম প্রোজোরিয়ো বা ‘হাচিনসন-গিলফোর্ড প্রোজোরিয়ো সিনড্রোম’।
মূলত এই রোগে আক্রান্তরা দ্রুত বুড়িয়ে যেতে থাকে। স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ছয়গুন দ্রুত হারে। বায়োজিদ শিকদার ঠিক প্রোজোরিয়োতেই আক্রান্ত কিনা। সেটা এখনও নিশ্চিত করেননি চিকিৎসকরা। তবে বায়োজিদেও সমস্ত লক্ষণই মিলে যায় প্রোজোরিয়োর যে লক্ষণ তার সঙ্গে। বায়েজিদের অস্বাভাবিক শারীরিক গঠন সম্পর্কে জানাজানি হওয়ার পর বিভিন্ন জনের পরামর্শে কয়েকদিন আগে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন তার বাবা মা। পরে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

Be the first to comment on "শিশু বৃদ্ধ বায়োজিদ ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি"