নিউজ ডেস্ক : রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র হলে দেশে বায়ু দূষণের ফলে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ধ্বংসসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক উইং আয়োজিত ‘সুন্দরবন: সর্বনাশের আরেক নাম রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।
গয়েশ্বর বলেন, রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র হচ্ছে ভারতীয় ব্যাংকের চড়া ঋণে। আবার বিদ্যুতের দামের অর্ধেক নেবে ভারত। বিয়ষয়টা খুবই রাজনৈতিক। বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকে দশ বছর যদি আমরা ক্ষমতার বাইরে থাকতে পারি, তবে আরও বিশ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকতে পারবো, কিন্তু জনগণের জন্য কিছু করতে হবে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আসলে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র করা হয়েছে ক্ষমতায় থাকা এবং ক্ষমতাধরদের সন্তুষ্ট রাখার জন্যই। রাজনৈতিক উদ্দেশে করা রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করতে হলে রাজনৈতিকভাবে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আজকে দেশে কোনো ধরাবাধা নিয়ম নেই , প্রকল্পের নামে যাকে খুশি ব্যবসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে।
গয়েশ্বর বলেন, দেশপ্রেম আর আবেগ দিয়ে রামপাল প্রকল্প বন্ধ করা যাবেনা। এর জন্য মাঠে নামতে হবে। তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে মেগা মেগা প্রজেক্ট করা হচ্ছে দুর্নীতির জন্য। কোটি টাকার কাজ এক লাখ টাকায় দেয়া হচ্ছে বিদেশি কোম্পানিকে। মূলত তাদের খুশি করতেই এসব করা হচ্ছে।
গয়েশ্বর বলেন, ইতিমধ্যে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র বন্ধের ব্যাপারে অনেক কথা যুক্তি দিয়ে বলেছেন। পরিবেশবিদ, বিজ্ঞানী, বিশিষ্ট নাগরিক সবাই রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তাই আমরা মনে করি এই প্রকল্প আমাদের জাতীয় জীবনে মারাত্মক হুমকি। তিনি বলেন, ভারতের একটি পরিত্যক্ত কোম্পািন আমাদের দেশে ক্ষতিকর রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মাণ করছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের নদীর পানি, বাতাস ও ফসল দূষিত হবে। জনজীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে। তাই প্রকল্প বন্ধে দেশের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
বিএনপির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আজিজুর রহমান, মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. আক্তার হোসেন খান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আব্দুল আউয়াল খান প্রমুখ।
Be the first to comment on "সুন্দরবন বাঁচাতে আমরা মাঠে নামবো: গয়েশ্বর"