নিউজ ডেস্ক : ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসবের দ্বিতীয় দিনে দর্শকের ভিড় ছিল আগের দিনের তুলনায় বেশি। শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় এদিন অনেকেই এসেছেন শেকড়ের গান শুনতে। ছুটির দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন ভারতের সুফি-ফোক-পপ ঘরানার শিল্পী কৈলাশ খের।
বলিউডের জনপ্রিয় এ শিল্পী যখন মঞ্চে আসেন তখন নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে যেন উল্লাসে ফেটে পড়ল পুরো আর্মি স্টেডিয়াম। সুরের সাগরে ভাসিয়ে নিলেন দর্শক-শ্রোতাদের। গানে গানে প্রায় ঘণ্টাখানেক মাতিয়ে রাখলেন হাজার হাজার মানুষকে। ‘আরজি আরজি’, ‘মে দিওয়ানা’, ‘তওবা তওবা’, ‘তেরি দিওয়ানি’, ‘সাইয়্যা’, ‘আল্লাহ কি বান্দে’র মতো তার বিখ্যাত গানগুলো শোনালেন তিনি।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনের পরিবেশনার শুরুতেই ছিল বাংলাদেশের নওগাঁর ছেলে জালালের অপূর্ব বাঁশি বাদন। তার বাঁশির সুমধুর সুরের সঙ্গে নজরুলের ঢোলের বাদন মুগ্ধ করে উপস্থিত হাজারো দর্শকশ্রোতাকে। জালালের বাঁশিতে মূলত ছিল লোকসঙ্গীতের সুর। সোনার ময়না পাখিসহ অনেক লোক গানের সুর তিনি বাঁশিতে বাজিয়ে শোনান। জালালের সঙ্গে থাকা কক্সবাজার সৈকতের শিশু শিল্পী জাহিদ গেয়ে শোনান চট্টগামের লোকসঙ্গীত ‘মধু হই হই আঁরে বিষ হাওয়াইলা’ গানটি।
গানটি পরিবেশনের সময় পুরো স্টেডিয়াম নেচেছে তালে তালে। এর পর মঞ্চে আসেন পালাগানের জনপ্রিয় শিল্পী মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের লতিফ সরকার। প্রথমেই তিনি শোনান ‘ঝাঁকে উড়ে আকাশজুড়ে দেখতে কী সুন্দর, জালালের জালালি কইতর’। এরপর তিনি শোনান ‘আমার মন মজাইয়া রে’, ‘তুমি বিনে আকুল পরাণ’, ‘এত দুঃখ দিলি বন্ধু রে’, ‘একদিন মাটির ভিতরে হবে ঘর’ ও ‘আওলাদে রাসুল মদিনার ফুল’।
লতিফ সরকারের পরিবেশনা শেষে মঞ্চে আসেন কানাডার শিল্পী প্রসাদ ও বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান শিল্পী তানভির আলম রাজীব। প্রসাদ গিটার, সেতার ও বাঁশিযোগে গান পরিবেশন করেন। আর রাজীব ছিলেন তবলায়। তারা ‘রাইজ লাইক এ সান’, ‘নো ওয়ার’ ও ‘রাইজ আপ দ্য পিপল’ গানগুলো ছাড়াও গিটার ও তবলার ইন্সট্রুমেন্টাল বাজিয়ে শোনান।
এর পর মঞ্চে গান নিয়ে আসে ভারতের জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ইন্ডিয়ান ওশান। সুফি, ফোক ও জ্যাজের মিশ্রণে ছিল তাদের পরিবেশনা। নিখিল রাও, অমিত কিলাম, রাহুল রাম, হিমাংশু যোশি ও তুহিন চক্রবর্তীর এ দলটির পরিবেশনা এদিন ছিল মূলত ইন্সট্রুমেন্টাল-নির্ভর।
ইন্ডিয়ান ওশানের পরিবেশনা শেষে মঞ্চে আসেন বাংলাদেশের বাউল শফি মণ্ডল ও লাবিক কামাল গৌরব। গাওয়া হয় ‘পাইতাম যদি মনের মানুষ’, ‘যমুনার ঘাটে সখি’ গানগুলো। শফি মণ্ডল গেয়ে শোনান ‘চাতক বাঁচে কেমনে’, ‘সোনার মানুষ’, ‘আমি মনমন্দিরে পূজা দেবো’।
এরপর মঞ্চে আসেন স্পেনের কারেন লুগো ও রিকার্ডো মোরো। স্পেনের ইতিহাস ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে ফ্লেমেনকো সঙ্গীত এবং তার সঙ্গে বিশেষ এক নৃত্য। স্প্যানিশ গিটারের সুর মূর্ছনার সঙ্গে একজন নারী ও পুরুষ সাধারণত এই পরিবেশনায় অংশ নেন।
মেরিল নিবেদিত এ উৎসবে সহযোগিতা করছে জিপি মিউজিক, ঢাকা ব্যাংক ও মাইক্রোসফট। এবারের উৎসবে বাংলাদেশসহ ছয় দেশের শতাধিক শিল্পী অংশ নিচ্ছেন।
শনিবার সমাপনী সন্ধ্যায় মঞ্চ মাতাবেন যারা : ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসবের সমাপনী দিন শনিবার। থাকছে বাংলাদেশের বারী সিদ্দিকী, সুনীল কর্মকার, ইসলাম উদ্দিন কিস্সাকার, তাপস ও তার বন্ধুদের পরিবেশনা। এ ছাড়াও থাকছে নুরান সিস্টার্সের সঙ্গীত। আরও গাইবেন যুক্তরাজ্যের স্যাম মিলস ও সুসিলা রহমান। উপমহাদেশের কিংবদন্তি পবন দাস বাউলের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসঙ্গীত উৎসবের।

Be the first to comment on "কৈলাশ খেরে মুগ্ধ দর্শকরা"