নিউজ ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে আগামী আট নবেম্বর দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবসের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) জোট।
বুধবার সিপিবি)’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ-এর সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান এক বিবৃতিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিবৃতিতে সিপিবি-বাসদ নেতৃবৃন্দ বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীরা হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির, ঘরবাড়ি এবং মানুষজনের ওপর যে বেপরোয়া হামলা চালিয়েছে, তা চরম উদ্বেগের। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পর দেশের আরো কয়েকটি স্থানে হামলা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে মোকাবেলা করতে না পারলে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। কিন্তু সরকার নমনীয় কিংবা নিষ্ক্রিয় থাকছে। সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে প্রতিরোধ করতে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আগামী ৮ নভেম্বর দেশব্যাপী সিপিবি-বাসদ আহূত ‘সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস’ সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির, হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ও মানুষজনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ বলেছেন, জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তিতেই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখে দাঁড়াতে হবে। বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে সিপিবি আয়োজিত এক বিক্ষোভ-সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে কমরেড জাফর ছাড়া আরো বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড মিহির ঘোষ ও কমরেড শাহীন রহমান।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, মৌলবাদী-সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আবার নতুন করে বিষাক্ত ফনা তুলেছে। বিভিন্ন স্থানে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা তারই আলামত। কিন্তু সরকার সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মোকাবেলায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে না। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্থানীয় প্রশাসন সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে সমাবেশের অনুমতি দিয়ে হামলা চালানোর সুযোগ করে দিয়েছে। সমাবেশে কমরেড জাফর অবিলম্বে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে সিপিবি একটি কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঘটনাস্থলে যায়। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আক্রান্ত মন্দির ও স্থানগুলো পরিদর্শন করেন এবং আক্রান্ত মানুষ ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলেন। বিকেলে নাসিরনগর শহীদ মিনারে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এক স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ধর্মব্যবসায়ী ও কায়েমী স্বার্থবাদীদের পরিকল্পিত সাম্প্রদায়িক উস্কানি এবং সরকারী নিস্ক্রিয়তার ফলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরপরাধ মানুষ আক্রমণের শিকার হয়েছে। মহাজোট সরকারের আমলে কক্সবাজারের রামু, যশোরের অভয়নগর, পাবনার সাঁথিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক হামলার বিচার না হওয়াতে হামলাকারীরা প্রশ্রয় পেয়েছে। ধর্ম অবমাননার গুজব রটিয়ে বারবার সাধারণ মানুষকে উত্তেজিত— অসহিষ্ণু করে তোলা সম্ভব হচ্ছে কেন তার কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও হবিগঞ্জের মাধবপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির-বসতবাড়িতে হামলা-ভাংচুর-লুটপাট-মারধর ও প্রশাসনের নিস্ক্রিয়তার প্রতিবাদে এবং অবিলম্বে সাম্প্রদায়িক হামলাকারী ও ইন্ধনদাতাদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোর দাবিতে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার উদ্যোগে বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাম মোর্চার ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক বাসদ(মার্কসবাদী) নেতা মানস নন্দীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হেসেন নান্নু, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের আহ্বায়ক হামিদুল হক, বাসদ(মাহবুব)-এর কেন্দ্রীয় নেতা ইয়াসিন মিঞা ও মহিনউদ্দিন লিটন।

Be the first to comment on "দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবসের ডাক দিয়েছে (সিপিবি)"