শিরোনাম

নাজিম হত্যা : পুলিশি তদন্তে গোলক ধাঁধা

নিউজ ডেস্ক: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও সিলেট গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যার মোটিভ নিয়ে গোলক ধাঁধায় রয়েছে পুলিশ। হত্যার ৯ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো কেউ গ্রেফতার হয়নি।  মামলার কার্যক্রম আন্দাজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানিয়েছে, নাজিমের ফেসবুকের লেখনী ও পারিবারিক শত্রুতাই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাদেরও বা জিজ্ঞাবাসাদের জন্য আটক করা হয়েছিল তাদের সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কে বা কারা হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়ে থাকতে পারে তা আন্দাজেই সীমাবদ্ধ রয়েছে পুলিশ।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঘটনার পর চারদিন শুধু আলামত সংগ্রহ ও হত্যার কারণ অনুসন্ধান করে তদন্তকারীরা ‘উগ্রপন্থীদের কাজ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে ঢাকায় মাত্র দুই মাস আগে আসা যুবক নাজিমের পরিচিতিও ছিল না। তবুও কারা কি কারণে খুন করলো তা বলা মুশকিল। খুনিরা নাজিমের পূর্বপরিচিত বা খুনিদের তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছে কাছের পরিচিত কেউ। এ কারণে নাজিমের নতুন ও পুরনো যোগাযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, খুন হওয়ার প্রায় দুই মাস আগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্যকালীন আইন বিভাগে ভর্তি হন নাজিমুদ্দিন সামাদ। নাজিম সহপাঠী সোহেলকে নিয়ে রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার রজনী চৌধুরী রোডের দুই৯/গ নম্বর বাড়ির ছয় তলায় সাবলেট হিসেবে ভাড়া করা বাসায় উঠেন।

পারিবারিকভাবে জানা গেছে, নাজিম ঢাকার নতুন যে বাসায় উঠেছিলেন তা জানত না স্বজনরা। বাসার থেকে প্রায় দেড় কি.মি দূরে সূত্রাপুর থানাধীন একরামপুরের তিন রাস্তার মোড়ে নিরাপদেই খুন করে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা।

অন্যদিকে, আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নাজিম হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে বলে দাবি করেছে জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ।

এব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সূত্রাপুর থানার ওসি (তদন্ত) সমীর চন্দ্র সূত্রধর  বলেন, নাজিম হত্যা মামলার তদন্তে ফেসবুক ও পারিবারিক শত্রুতার বিষয়কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। ফেসবুকে প্রতিক্রিয়াশীল নাজিমের অন্য কারো রোষানলে পড়েছিলেন না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে আনসারুল্লাহ দায় স্বীকার করায় উগ্রবাদীদের উপর সন্দেহ আরও বেড়েছে। পাশাপাশি ধর্মীয়, সম্পত্তি কিংবা প্রভাব বিস্তার সংক্রান্ত কোনো পারিবারিক দ্বন্দে নাজিম বলি হলো কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার (পূর্ব) মাহবুব আলম নাজিম হত্যার ঘটনাটি ছায়া তদন্ত করছে। ব্লগার খুনের ন্যায় সাদৃশ্য রয়েছে। আমরা সব বিষয়ই বিবেচনায় নিয়ে খতিয়ে দেখছি।

তিনি আরো বলেন, দুইদিন আগে সূত্রাপুর থানার ফরাশগঞ্জ এলাকা থেকে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন ঈদী আমিন ও বিএম মুজিবুর রহমান। নাজিম হত্যায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল রাতে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের ঋষিকেশ লেন (একরামপুর) মোড়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সন্ধ্যাকালীন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নাজিমুদ্দিন সামাদকে। এ ঘটনায় নাজিমের স্বজনরা রাজি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে সূত্রাপুর থানার এসআই নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলা করেছে। মামলায় অজ্ঞাত চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

basic-bank

Be the first to comment on "নাজিম হত্যা : পুলিশি তদন্তে গোলক ধাঁধা"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*