নিউজ ডেস্ক : দলীয় প্রতীকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রে কেন্দ্রে শুরু হয়েছে গণনা। পৌনে পাঁচ লাখ ভোটারের এ নগরে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলে ১৭৪টি কেন্দ্রে। বেলা ১২টা পর্যন্ত ৩০ শতাংশ ভোট পড়ার গড় হিসাব ধরে নির্বাচন কমিশন সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত ভোটের হার ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে তারা আশা করছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে।”
দলীয় প্রতীকে এই নির্বাচন ঘিরে শুরুতে নানা শঙ্কার কথা শোনা গেলেও বৃহস্পতিবার ভোটের দিন কোথাও কোনো গোলযোগ না ঘটায় সবার মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়ায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর পাশাপাশি বিএনপির প্রার্থী সাখাওয়াত হোসেন খানও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অবশ্য শেষ বেলায় এসে ধানের শীষের প্রার্থী সাখাওয়াতের মনে হয়েছে, কোনো কোনো জায়গায় ‘ভোটার উপস্থিতি কম’, আর এটা ঘটেছে প্রভাব বিস্তারের কারণে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা জানান, বিকাল ৪টায় ভোটগ্রহণের সময় শেষ হলেও তার আগে যারা কেন্দ্রে ঢুকেছিলেন, তাদের সবাইকেই ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে গণনা শেষে কেন্দ্রের ফল প্রকাশ করবেন প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা। এরপর কেন্দ্র থেকে ফলাফল নারায়ণগঞ্জ ক্লাবে স্থাপিত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে পৌঁছালে সেখান থেকে একীভূত ফলাফল ঘোষণা হবে। রাজধানীর কাছের এই সিটি করপোরেশনে সেলিনা হায়াৎ আইভীই কি মেয়রের চেয়ারে থাকবেন; নাকি সেই ধারার ছ্দে টেনে নগর ভবনে যাবেন সাখাওয়াত হোসেন খান- তা জানতে পুরো দেশের অপেক্ষার অবসান ঘটবে ওই ফলাফল পেলে।
পরে ২৪ নবেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিল শেষে ২৬ ও ২৭ নবেম্বর ৪ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন। ৫ ডিসেম্বর ২০১ বৈধ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেন রিটার্নিং অফিসার। আইভী ও সাখাওয়াতসহ মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরে প্রতীক বরাদ্দ পেয়েও দুজন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। অন্যদিকে ২৭ সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ১৭৬ এবং ৯ সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে ৩৮ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে মেয়র পদে একজন ও নারী কাউন্সিলরসহ ১৪ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। পরে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে আপীল করে এক নারী কাউন্সিলর প্রার্থীসহ ৬ কাউন্সিলর প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। ২৭ সাধারণ ওয়ার্ডে ১৫৬ কাউন্সিলর প্রার্থী ও ৯ সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৮ নারী প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্য মেয়র প্রার্থীরা হলেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্র্থী মাহবুবুর রহমান ইসমাইল (কোদাল), ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী মাওলানা এজহারুল হক (মিনার), ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি মাসুম বিল্লাহ (হাতপাখা)। এলডিপির কামাল প্রধান (ছাতা) ও কল্যাণ প্রার্থীর রাশেদ ফেরদৌস (হাতঘড়ি) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও ব্যালট পেপারে তাদের প্রতীক রয়েছে।

Be the first to comment on " ভোট গ্রহণ শেষ, চলছে গনণা"