নিউজ ডেস্ক : মুক্তিপণের ২০ লাখ টাকা না দেওয়ায় কুমিল্লার তিতাসে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আবু তাহের হৃদয়কে হত্যা করে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে অপহরণকরীরা। গতকাল রবিবার রাতে অপহরণকারীদের চারজনকে আটক করে পুলিশ।
তাদেরকে আটকের হত্যা রহস্য উদঘাটন হয়। আজ সোমবার আটকৃতদের নিয়ে লাশ উদ্ধারের জন্য তিতাস নদীতে যাবে পুলিশ।
নিহত হৃদয় তিতাস উপজেলার জগতপুর ইউনিয়নের মধ্য আকালিয়া গ্রামের বাসিন্দা বাতাকান্দি বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বশির আহমেদের একমাত্র ছেলে। সে বাতাকান্দি সরকার সাহেব আলী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র। আটক অপহরণকারী একই উপজেলার বলরামপুর ইউপি মেম্বার রেনু মিয়ার ছেলে রিয়াদ হোসেন (২০), আকালিয়া গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে মোহাম্মদ আলী (৩০), গুনপুর গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে সাকিব (২২) এবং নজরুল ইসলামের ছেলে মহিন আহমেদ (২৪)।
তিতাস থানা ও নিহত ছাত্রের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার সন্ধ্যায় গ্রামের পাশে খেলার মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় হৃদয়। রাত সাড়ে ১০টার পরও সে বাড়ি ফেরায় বিভিন্ন স্বজনদের বাড়িতে খোঁজ করতে থাকেন তার বাবা-মা। পরের দিন বৃহস্পতিবার একটি অপরিচিত নম্বর (০১৭৪৫৫০৯৮৪৮) থেকে মোবাইল ফোন আসে। তাতে বলা হয় হৃদয় অপহরণকারীদের হেফাজতে রয়েছে। তাকে ফেরত পেতে হলে ২০ লাখ টাকা লাগবে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে ছেলেকে জীবিত দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। পরে ছেলেকে মুক্ত করার জন্য তিন লাখ টাকা জোগাড় করেন হৃদয়ের বাবা। কিন্তু অপহরণকারীরা ২০ লাখ টাকার নিচে হৃদয়কে ছাড়বে না বলে জানিয়ে দেয়। এত টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হয়ে হৃদয়ের বাবা বশির আহমেদ শুক্রবার রাতে তিতাস থানা পুলিশকে জানান। রাতেই তিতাস থানায় তার বাবা বাদী হয়ে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তিতাস থানার এসআই মো. শহিদুল হক ওই মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে অপহরণকারীদের ধরতে পুলিশি অভিযান চালান। রবিবার দিবগাত রাতে অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী চারজনকে আটক করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে হৃদয়কে অপহরণের কথা স্বীকার করে তারা। ২০ লাশ টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তারা হৃদয়কে হত্যা করে লাশ বস্তায় ভরে তিতাস নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছে বলে জানায় তারা। পুলিশ হৃদয়ের লাশ উদ্ধার এবং অপহরণকারী অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
নিহত হৃদয়ের বাবা বশির আহমেদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “বাবারে আমি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ২০ লাখ টাকা কোথা থেকে যোগাড় করব। এরপরও অনেক ধার হাওলাত করে তিন লাখ টাকা জোগাড় করে বলেছি, ‘আপনারা আমার বাবাজান আপনাগো কাছে আমার ছেলের প্রাণ ভিক্ষা দেন। আমাকে সময় দেন ভিটেমাটি বিক্রি করে টাকা যত পারি যোগাড় করে দিমু। জল্লাদরা আমার একমাত্র সোনার ধন হৃদয়রে মেরে নদীতে ভাসাইয়া দিছেরে…বাবা। ” কথাটি বলেই মুর্চ্ছা যান তিনি। তিতাস থানা ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, “অপহরণের অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই থানায় মামলা নিয়ে অপহরণকারীদের ধরার জন্য অভিযান চালাই। রবিবার রাতেই চার অপহরণকারীকে ধরার পর তাদের নিকট হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছি। মেধাবী স্কুলছাত্র হৃদয়ের লাশ উদ্ধার এবং অপহরণকারী অন্যদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Be the first to comment on "মুক্তিপণের ২০ লাখ টাকা না পেয়ে স্কুলছাত্র হত্যা"