নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসীদের মাঝে ফিরে এসেছে স্বস্তির নি:শ্বাস। স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমান বন্দরে যাতায়াতকালে দুই ইরাকি শরণার্থীসহ ১১ জনকে আটকের ঘটনায় নিউ ইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন মুসলিমপ্রধান দেশের অভিবাসীরা।
তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশ গতকাল রাতেই আদালত কর্তৃক স্থগিত হওয়ায় তাঁরা কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমান বন্দরে যাতায়াতকালে দুই ইরাকি শরণার্থীসহ ১১ জনকে আটকের ঘটনায় নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো ও টেক্সাসসহ বিভিন্ন বড় বড় শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। আটককৃত ব্যক্তিদের মুক্তি চেয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে চার নম্বর টার্মিনালের গাড়ি পার্কিং এলাকায় বিক্ষোভ করেন মুসলিমপ্রধান দেশের অভিবাসীরা। প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশিরাও উক্ত বিক্ষোভ অংশ নেন।
আটক ব্যক্তিদের পক্ষে ফেডারেল আদালতে একটি আবেদন করেছে মানবাধিকার সংগঠন ‘দ্য আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন ও আরও কয়েকটি শরণার্থী সহায়তা সংস্থা। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে নিউ ইয়র্কের ফেডারেল আদালত গতকাল শনিবার রাতে ট্রাম্পের জারি করা নির্বাহী আদেশ স্থগিত করেন। আবেদনটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাম্পের ওই আদেশ বাস্তবায়ন আপাতত স্থগিত থাকবে। এর ফলে ওই মুসলিম দেশগুলো থেকে শরণার্থী ও অভিবাসী প্রবেশে আর বাধা থাকল না।
আবেদনে তারা ট্রাম্পের ওই আদেশকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা চেয়ে এটির বাস্তবায়ন ঠেকাতে আদালতের হুকুম প্রত্যাশা করেন। শুনানির পরই আদালত আবেদনটির পুরোপুরি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই আদেশ বাস্তবায়নের ওপর স্থগিতাদেশ দেন।
আমেরিকান সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ক্ষমতা নেওয়ার সপ্তাহ পার হতেই প্রেসিডেন্টকে এই প্রথম সাংবিধানিক বিপত্তির মুখে পড়তে হলো।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে মার্কিন ভূ-খণ্ডে ৪ মাসের যেকোনো ধরনের শরণার্থী প্রবেশ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আর সিরিয়ার ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা জারি হয় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত। ট্রাম্প তার আদেশে সিরিয়া ছাড়াও মুসলিমপ্রধান আরও ৬টি দেশের দর্শনার্থী প্রবেশ ৩ মাসের জন্য বন্ধ করে দেন। সেই ৬টি দেশ হলো- ইরাক, ইরান, ইয়েমেন, লিবিয়া, সোমালিয়া ও সুদান।

Be the first to comment on "যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসীরা স্বস্তি ফিরে পেল"