নিউজ ডেস্ক : এই বছরের মার্চ-এপ্রিলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য আইসিসির কাছ থেকে ভারত পেয়েছিল ৪৫ মিলিয়ন ডলার। আগামী বছরের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য ইংল্যান্ডের জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ নাকি ১৩৫ মিলিয়ন ডলার! প্রায় তিন গুণ! যেখানে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে ম্যাচ ছিল ৫৮টি (ছেলে ও মেয়েদের দল মিলিয়ে), সেখানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ম্যাচ থাকবে ১৫টি। স্বাভাবিকভাবেই এই বৈষম্য মেনে নিতে পারছে না ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। আর এ কারণেই বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থার (আইসিসি) সঙ্গে তাদের উষ্ণ সম্পর্কটা শীতল হতে চলেছে।
এমনিতেই আইসিসি ও এর নির্বাচিত ‘ভারতীয়’ চেয়ারম্যান শশাঙ্ক মনোহরের সঙ্গে ভারতীয় বোর্ডের কয়েক মাস ধরে একটু চাপান-উতোর চলছে। সেটি প্রকাশ্যে এসে গেলে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে। বিসিসিআই সভাপতি অনুরাগ ঠাকুর গতকাল ভারতীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ‘(চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বরাদ্দ নিয়ে) আমাদের কিছু প্রশ্ন আছে। আইসিসিকে সেগুলো পাঠিয়েও দিয়েছি। কারণ, এমন একটা টুর্নামেন্টে যে অর্থ ব্যয় হবে, সেটি সবার পকেট থেকেই যাবে। একটি ক্রিকেট খেলুড়ে জাতি হিসেবে ভারত সব সময়ই বিশ্বের অন্যদের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চায়।’
আইসিসির একটি অংশ অবশ্য এই ১৪৫ মিলিয়ন ডলার বাজেটের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তাঁদের দাবি, বাজেটটা কোনোভাবেই ৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি হবে না। আইসিসিও বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আইসিসির অন্য সব ইভেন্টের মতো এই ইভেন্টের ক্ষেত্রেও বাজারমূল্যের সাপেক্ষে সবচেয়ে ভালোভাবে আয়োজন করার লক্ষ্য নিয়েই বাজেট করেছে স্বাগতিকেরা। আইসিসির বার্ষিক সম্মেলনে এই বাজেটটা আনুষ্ঠানিকভাবে সব সদস্য দেশের সঙ্গে আলোচনা করে অনুমোদন করিয়ে নিয়েছে।’
তবে ভারতের দাবি, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল বেশি ছিল, সব দলকে বিমানে আনা-নেওয়াও করা হয়েছে। যেখানে ইংল্যান্ডে দল অনেক কম, আর তাদের বাসে করেই আনা-নেওয়া করা হবে।
অবশ্য শুধু এটিই নয়, শশাঙ্ক মনোহরের সঙ্গে বিসিসিআইয়ের সম্পর্কের টানাপোড়েনের আরেকটি কারণ, আইসিসির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘অর্থ ও বাণিজ্যবিষয়ক কমিটিতে’ই ভারতের কোনো প্রতিনিধি না থাকা। আইসিসির সব বড় বাজেট তৈরি করার দায়িত্ব থাকে এই কমিটির ওপরই।
বিসিসিআইয়ের একজন কর্মকর্তা তাই টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ‘আইসিসির আয়ের ৮০ শতাংশই আসে বিসিসিআইয়ের কাছ থেকে। আর সেই বিসিসিআইয়েরই এমন কমিটিগুলোতে কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই। মনে হচ্ছে যেন, যে হাত খাবার দেয়, সেই হাতই কেটে ফেলতে চাইছে আইসিসি।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া।

Be the first to comment on "‘যে হাত খাবার দেয়, সেই হাতই কেটে ফেলতে চায় আইসিসি’"