শিরোনাম

রানাপ্লাজা: আহত ৫১৫ শ্রমিকের কর্মসংস্থান সহায়তায় জার্মান সরকার

নিউজ ডেস্ক : রানাপ্লাজা দুর্ঘটনায় আহত ৫১৫ জন শ্রমিককে কর্মসংস্থানে সহায়তা করেছে জার্মান সরকার। এসব শ্রমিকরা আবারো ঘুরে দাড়িয়েছে। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা এখন উপার্জন করছেন। ররিবার রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।

রানা প্লাজা ধ্বসের পর ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও বেঁচে যাওয়া  পোশাক শ্রমিকদের জন্য বিশেষ তহবিল এর ব্যাবস্থা করে জার্মানি। পক্ষাঘাত পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি) ও অন্যান্য  বেসরকারি সংস্থার সাথে যৌথভাবে এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন করছে জিআইজেড। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে রবিবার সিআরপির মিরপুর কার্যালয়ে এক যৌথ আলোচনার আয়োজন করে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাসরিন আরা সুরাত আমিন, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি ফর রেড ক্রসের (আইসিআরসি) হেড অফ ডেলিগেশন ইখতিয়ার আসনালভ, বিজিএমইএ-এর সিনিয়র ভাইস  প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান ও অন্যান্য অতিথিদের উপস্থিতিতে এই কর্মসূচির সহায়তাপ্রাপ্ত ৫১৫ জন ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হয় উক্ত অনুষ্ঠানে। এর আগে এই বিষয়ের ওপর দুটি গবেষণা পরিচালিত হয়- প্রথমটি রানা প্লাজা দূর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ৫১৫ শ্রমিকের মাঝে সিআরপি ও অন্যান্য চার বেসরকারি সংস্থার সাথে জিআইজেডের যৌথ উদ্যোগে এবং অন্যটি ৫০৯ ব্যক্তির মাঝে সিআরপির একক উদ্যোগে।

এখন পর্যন্ত রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫০৯ জনকে চিকিৎসা ও ৩৯০ জনকে কারিগরি প্রশিক্ষণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। সহায়তাপ্রাপ্ত এসব ব্যক্তিদের অধিকাংশই বর্তমানে বিভিন্ন ব্যবসা উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত আছেন এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ উপার্জনে সক্ষম হয়েছেন বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।  গবেষণায় ৭১ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে তারা বর্তমানে উপার্জন করছেন এবং অধিকাংশই নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ছয় শতাংশ ফিরে গেছেন  পোশাক কারখানার কাজে এবং ১৩ শতাংশ ব্যক্তি দুর্বল মানসিক স্বাস্থ্যের কারণে এখনও  কোনো কাজে  যোগ দিতে পারেননি। মিরপুরে অবস্থিত সিআরপির ইনক্লুসিভ জব সেন্টারের মাধ্যমে এইসব প্রান্তিক ব্যক্তিদের সহায়তা দিতে চায় জিআইজেড।

অনুষ্ঠানে সিআরপির নির্বাহী পরিচালক শফিকুল ইসলাম তার বক্তব্যে রানা প্লাজা দুর্ঘটনায়  বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের জরুরি পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থ-সামাজিক সহায়তা প্রদানের ওপর জোর দেন।  তিনি বলেন, সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রাপ্ত ফলাফল অনুসরণ করে তাদেরকে প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা দিতে সিআরপি বদ্ধপরিকর। রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিতে ক্ষতিগ্রস্থদের  বেতন, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন বাবদ এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় করেছে বিজিএমইএ।

অনুষ্ঠানে জিআইজেডের  প্রোগ্রাম  কোঅর্ডিনেটর ড. ইয়োখেন ভাইকার্ট বলেন, আমরা আনন্দিত  যে অংশীদারদের সাথে নিয়ে যে ৫১৫ জন ব্যক্তিকে আমরা সহায়তা দিয়েছিলাম তাদের অধিকাংশই জীবিকা নির্বাহের পথ খুঁজে পেয়েছেন এবং সমাজে নিজেদের পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন।  গত তিন বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের এখন অন্যান্য প্রতিবন্ধীদের মাঝে আশার সঞ্চার করতে হবে।  ইনক্লুসিভ জব  সেন্টার স্থাপনের ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে অন্তর্ভুক্তিমূলক জনবল নিয়োগ ও সবার জন্য সমান সুযোগ প্রতিষ্ঠায় আমরা আমাদের কাজের পরিধি বৃদ্ধি করতে পারবো।

বাংলাদেশ ও জার্মান সরকারের  যৌথ প্রকল্প প্রোমোশন অফ সোশ্যাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল স্ট্যান্ডার্ডস ইন দি ইন্ডাস্ট্রি (পিএসইএস) ‘ইনক্লুসিভ জব সেন্টার’ স্থাপনের মাধ্যমে এ পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটানোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শারীরিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনায়  রেখে তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে পোশাক কারখানায় কর্মসংস্থানে সহায়তা  দেয়াই এই প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে জিআইজেড, যা জার্মান ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএমজেড)-এর পক্ষে কাজ করে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগে আগ্রহী কারখানা চিহ্নিত করে শূন্যপদে উপযুক্ত জনবল সরবরাহ করে পিএসইএস।

গত চার মাসে ইনক্লুসিভ জব সেন্টারে নিয়োজিত কর্মকর্তারা এমন ২০০ প্রতিবন্ধীদের চিহ্নিত করেছেন। তাদের মধ্যে ৩৮ জনকে তৈরি  পোশাক কারখানায় কাজ দেয়া হয়েছে ও  ছয়জনের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া শ্রমিকদেরও তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মসংস্থান নিশ্চিতে সহায়তা দিয়েছে পিএসইএস।

basic-bank

Be the first to comment on "রানাপ্লাজা: আহত ৫১৫ শ্রমিকের কর্মসংস্থান সহায়তায় জার্মান সরকার"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*