শিরোনাম

সুশান্ত পালের ‘শাস্তি’ এবং ৫৭ ধারা নিয়ে বিতর্ক

নিউজ ডেস্ক : কাস্টমস কর্মকর্তা সুশান্ত পালকে বদলী করে তাঁর ‘মানসিক চিকিৎসার’ ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে ‘মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি তাঁর ফেসবুক পাতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি পোস্ট দেন কাস্টমস কর্মকর্তা সুশান্ত পাল। গল্পের মতো করে লেখা পোস্টটিতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষার্থীদের ‘র‌্যাগিং’ দিতে গিয়ে যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে বলে উল্লেখ করেন।

তাঁর ওই পোস্টের বিরুদ্ধে সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিবাদ শুরু হলে সুশান্ত ক্ষমা চেয়ে পোস্টটি সরিয়ে নেন। কিন্তু প্রতিবাদ তাতে থামেনি। গত রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও মিছিল করে প্রক্টরের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার শাহবাগ থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলাও হয় সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব, ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের এক শিক্ষার্থীর করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হয়ে সুশান্ত পাল দেশের শীর্ষ একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ তথ্য প্রচার করেছেন। মামলার কয়েক ঘণ্টা পরই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।

এক বিভাগীয় আদেশে জানানো হয়, সুশান্তকে খুলনা থেকে রংপুরে ‘স্ট‌্যান্ড রিলিজ’ করা হয়েছে। আরো জানানো হয়, ‘বদলী ও পদায়নকৃত কর্মকর্তাকে মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিশনারকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’ সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় অনেকেই ভীষণ খুশি। ফেসবুকে সাংবাদিক প্রভাষ আমিন লিখেছেন, ‘সুশান্ত পাল যে একটা বদ্ধ উন্মাদ, তার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। শুধু ওএসডি করা নয়, মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবার প্রমাণিত হলো, বিসিএস জীবনের শেষ কথা নয়। আর বদ্ধ উন্মাদরাও কখনো কখনো বিসিএস এ প্রথম হয়। প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার, এই উন্মাদের পেছনে আর সময় নষ্ট করার মানে নেই।’

তবে সুশান্ত পালের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন। ২০০৬ সালে প্রণীত তথ্যপ্রযুক্তি আইনের এই ধারার সমালোচনায় দীর্ঘদিন ধরেই অনেকে সোচ্চার। এই ধারাটিকে ‘বাকস্বাধীনতা হরণকারী’ হিসেবে উল্লেখ করে এটি বাতিলের দাবিও উঠছে অনেক দিন ধরে।

এমন একটি আইনে মামলা করায় ফেসবুকে কুলদা রায় লিখেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ডাকাতদের গ্রাম বলেছিলেন বিশিষ্ট জামায়াতি কবি আল মাহমুদ। তখন এটা নিয়ে প্রতিবাদ হয়েছিল। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কেউ মামলা করেনি। মামলা করার দরকার পড়ে না। কারণ আল মাহমুদ তাঁর অভিমত জানিয়েছেন। সে অধিকার তাঁর আছে। তাঁর অভিমতের বিপরীতে ভিন্ন মত দিয়ে তাঁর মতটি খণ্ডন করা যায়। আল মাহমুদ বা যে কেউ বললেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডাকাতদের গ্রামে পরিণত হয় না। কে একজন সুশান্ত পাল নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র কাম বিসিএসধারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নেতিবাচক কিছু বলল আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-ইজ্জত খোয়া গেল, সেই মান-ইজ্জত পুনরুদ্ধার করার জন্য আইসিটি ৫৭ নামে একটি কালো আইনের আওতার মামলা দায়ের করতে হবে- ভাবতেই কেমন লজ্জা লাগছে!’

কুলদা রায়ের মতে, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের যদি কোনো ভিন্নমত সহ্য করার ক্ষমতা না থাকে, তবে এলেবেলে প্রতিষ্ঠান বা লোকের কাছ থেকে বাক স্বাধীনতা, পরমত সহিষ্ণুতার চর্চা আশা করি কেমনে? বাক স্বাধীনতা ও পরমত সহিষ্ণুতার চর্চা ছাড়া সভ্য হওয়া যায় না।’ অনেকেই তাঁর এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

কাজী মামুন লিখেছেন, ‘না পড়ে কোনো মন্তব্য করাই উচিত হয়নি আপনার। কোন ধারা ব্যবহার করেছে এটা মুখ্য না, আপনার বক্তব্য একজন যৌন নিপীড়কের পক্ষে যাচ্ছে, এটাই মুখ্য।’ কুলদা রায় অবশ্য সুশান্ত পালের প্রতি তাঁর কোনো সহানুভূতি নেই জানিয়ে দাবি করেছেন তিনি বাক স্বাধীনতার পক্ষে এবং ৫৭ ধারার প্রয়োগের বিপক্ষে। তবে ৫৭ ধারার বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে কুলদা রায় যে গোড়াতেই একটা ভুল করেছেন সেটা ধরিয়ে দিয়েছেন এনায়েত উল্লাহ। তিনি লিখেছেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো মামলা করেনি’।

সহকারী কমিশনার সুশান্ত ৩০তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলেন। শুল্ক বিভাগে যোগ দেওয়ার পরও সোশাল মিডিয়ায় খুব সক্রিয় ছিলেন। সেখানে তাঁর জনপ্রিয়তাও ছিল চোখে পড়ার মতো। ফেসবুকে তাঁর ‘ফলোয়ার’ পায় দুই লাখ ৪০ হাজার।
সূত্র : ডয়চে ভেলে

basic-bank

Be the first to comment on "সুশান্ত পালের ‘শাস্তি’ এবং ৫৭ ধারা নিয়ে বিতর্ক"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*