নিউজ ডেস্ক : নড়াইলের লোহাগড়ায় ভিপি সম্পত্তি ইজারা-নবায়ন বন্ধ করে ভূমি অফিসের অসাধু ব্যক্তিদের যোগসাজগ ও প্রশাসনের উদাসীনতায় ‘সরকারি খতিয়ান ভূক্ত ভিপি সম্পত্তি সরকারের হাত ছাড়া হতে চলেছে। ভূমি মন্ত্রনালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ইজারা-নবায়ন কারিরা। লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার লোহাগড়া পৌরসভার সিংগা মৌজার ভিপি কেস নং লোহা/৪২১,৪৪৭,৪৪৯ দাগ নং৭০১,৫৯৭,৮০০ এবং অন্য দাগসহ মোট জমির পরিমান প্রায় ৩ একর। উক্ত ভিপি কেসের সম্পত্তি বাংলাদেশ সরকার ইজারা দেওয়ার পর থেকে লক্ষীপাশার মহিউদ্দিন মোল্লা, রাজুপুর গ্রামের জাহানারা বেগম ও খলিশাখালী গ্রামের মমতাজ বেগম গং সরকার নির্ধারিত ফিসের বিনিময়ে ইজারা গ্রহন ও নির্ধারিত সময়ে নবায়ন করে আসছেন। কিন্তু হাল সনের নবায়নের জন্য ৭/৮মাস আগে আবেদন করে ভূমি অফিসে যোগাযোগ করা হলেও নানা টালবাহানায় ইজারা-নবায়ন বন্ধ করে রাখা হয়েছে। লোহাগড়া সহকারি কমিশনার (ভূমি) কে এ বিষয়ে একাধিকবার জানিয়েও কোন ফল হয়নি। অথচ সরকারি নিয়মানুযায়ী আবেদন করার ৭দিনের মধ্যে ইজারা নবায়ন করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। অভিযোগে আরো জানা গেছে, লক্ষীপাশা ভূমি অফিসের নায়েব মোতালেব হোসেন সহ(বর্তমান অন্যত্র কর্মরত) কয়েকজন অসাধু কর্মচারী মোটা অংকের উৎকোচের বিনিমিয়ে উক্ত ভিপি সম্পত্তি লক্ষীপাশার কচুবাড়িয়া গ্রামের মৃত সুধীর কুমার দত্তের ছেলে কুমারেশ দত্তকে পাইয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করে। যার ফলে কুমারেশ দত্ত ওই ভিপি সম্পত্তি মালিকানা দাবী করে নড়াইল দেওয়ানী আদালতে একটি মোকদ্দমা দায়ের করেন, যার নম্বর ভিপিটিএসি ১০/১৫। ওই মামলার সাক্ষী সরকার পক্ষের ভোগ দখলকারী হিসেবে আদালত ভিপি ইজারা গ্রহনকারীদের ভূমি অফিসের মাধ্যমে তলব করলেও ষড়যন্ত্রকারি নায়েব সাক্ষীদের আদালতে হাজির না করায় মামলায় বাদী পক্ষ এক তরফা রায় পেলেও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে নড়াইলের জেলা প্রশাসন আপিল করেন। নায়েব মোতালেব হোসেনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার আইন করেছে সম্পত্তি মালিকের নিকট ফেরত দেওয়ার, এখানে আমার করনীয় কি আছে? নায়েব মোতালেব হোসেন, দির্ঘদিন লক্ষীপাশা ভূমি অফিসে চাকুরি করার সুবাদে এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত ভূমিদস্যুদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে সরকারি আইনকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে ভিপি সম্পত্তি “দিনকে রাত,-রাতকে দিন ” করে অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। বেসভূষন ও চলনবলন দেখে কারও বোঝার উপায় নেই যে, এতোটা সম্পত্তির মালিক তিনি। সহকারি কমিশনার (ভূমি) সাজিয়া আফরীনকে অফিসে বা মোবাইলে ফোন করেও পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীরা নিরুপায় হয়ে নড়াইলের জেলা প্রশাসক,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও লোহাগড়া সহকারি কমিশনার (ভূমি) বরাবর হাল সনের ইজারা নবায়নের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। নড়াইলের জেলা প্রশাসক হেলাল মাহমুদ শরীফ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইজারা-নবায়ন বন্ধ রাখার কথা নয়। বিষয়টি আমি দেখছি। প্রতি বছর ভিপি সম্পত্তি ইজারার বিনিময়ে সরকারের বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় হয়ে থাকে। দীর্ঘদিন ইজারা বন্ধ রাখার ফলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি ভূমি অফিসের ষড়যন্ত্রের ফলে সরকারের ভিপি সম্পত্তি বেহাত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। ভূমি মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা।
লোহাগড়ায় অর্পিত সম্পত্তি ইজারা প্রদানে টালবাহানা

Be the first to comment on "লোহাগড়ায় অর্পিত সম্পত্তি ইজারা প্রদানে টালবাহানা"