নিউজ ডেস্ক : নড়াইলের পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম। শান্তীপ্রিয় নড়াইলবাসির অতি আপনজন, প্রিয়জন। তবে তাঁর প্রতি বিরাগ ভাজন দূর্নীতিবাজ,অপরাধি, কালো বাজারী ও চিহিৃত সন্ত্রাসীরা। বিশেষ করে মাদক ব্যবসায়ী,ভূমিদস্যু ও চাঁদাবাজদের নিকট তিনি আতংক। আরোও ভয়ংকর আতংক রাজাকার যুদ্ধাপরাধীদের জন্য। নড়াইল জেলার শীর্ষ রাজাকার ও কুখ্যাত জল্লাদ আব্দুল ওহাব এবং ওমর জল্লাদকে তিনি সুকৌশলে নাশকতা মামলায় গ্রেফতার করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান এর সাথে যোগাযোগ করে তাদের সম্পর্কে তথ্য দেন। তিনি নড়াইল পরিদর্শন করে এ দুই রাজাকার জল্লাদ সম্পর্কে তথ্যাদি সংগ্রহ করে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তাদেরকে নড়াইল জেলা কারাগার হতে কাসিমপুর কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনার পর অনেকটা চুপসে গেছে জেলার শীর্ষ রাজাকার ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। একের পর এক মাদকের চালান ও মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করে মাদক ব্যবসা প্রায় নির্মূল করে ফেলেছেন। আগের মত জেলায় মাদক ব্যবসা নেই। মাদক ব্যবসায়ীদের কেউ জেলে। কেউ এলাকার বাইরে। কেউবা অন্য পেশায় আতœনিয়োগ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। অব্যহত অভিযানের মুখে কমে গেছে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। চুরি,ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের কথা আর শোনা যায় না। সামাজিক অপরাধ নাই বললেই চলে। উগ্রপন্থী জামায়াত-বিএনপি নেতা কর্মীদের তান্ডব দমন করেছেন শক্ত হাতে। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেছেন। রেজিস্ট্রেশন বিহীন মোটর সাইকেল বা অন্য যানবাহন এখন আর দেখা যায় না। মোটর সাইকেলে তিনজন আরোহনের ব্যাপারে তিনি অত্যন্ত কঠোর। এ ব্যাপারে কাউকেই ছাড় দেন না। জেলা ও উপজেলা শহর তো দূরের কথা ছুটে যাচ্ছেন গ্রামাঞ্চলে। কখনও ইউনিফর্ম আবার কখনও সিভিল পোশাকে রাস্তায় দাড়িয়ে যানবাহনের গতিবিধি লক্ষ্য করেন।। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে দুস্কৃতকারি অপরাধিদের সম্পর্কে খোঁজ নেন। সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে জানতে চান এলাকায় কেউ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজি করছে কি-না। কোন দূর্বল ব্যক্তি প্রভাবশালী কারো হিং¯্রতার শিকার হলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। জেলার পুলিশ বিভাগে এনেছেন আমুল পরিবর্তন। জেলার কোন থানাতেই জিডি করতে টাকা লাগে না। অহেতুক লোকজন ধরে এনে হয়রানী ও মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ বাণিজ্য করা হয় না। জেলার কোন থানায় দালাল নেই। প্রত্যেকটি থানাকে দালাল মুক্ত করেছেন। জেলার প্রত্যেকটি স্কুল,কলেজ,মাদরাসা এলাকায় পুলিশি টহল ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে ইভটিজিংয়ের মত সমাজ বিধ্বংসি ঘটনা কমিয়ে এনছেন। বিশেষ করে মহিলা কলেজ ও বালিকা বিদ্যালয় এলাকায় প্রায়ই তিনি নিজে টহল দিয়ে থাকেন। ঝড়,অগ্নিকান্ড বা অন্য কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটলে তিনি দ্রুত সেখানে ছুটে যান। ক্ষতিগ্রস্থদের সহযোগিতা করেন। তাদের শক্তি সাহস যোগান। তিনি একজন ভাল ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তত্বও বটে। ক্রিড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রন পেলেই সেখানে ছুটে যান। শিল্পী এস এম সুলতান মেলা,বৈশাখী মেলা সহ অন্যান্য মেলায় তার আন্তরিক উপস্থিতি সত্যিই মেলার আয়োজক ও নড়াইল বাসিকে মুগ্ধ করে। ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন তিনি সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়ে। পুলিশ সুপারের নির্দেশ ও পরামর্শে নির্বাচনের পূর্বে ও পরে জেলায় ব্যাপক সতর্কতা অবলম্বন করে পুলিশ। বিশেষ করে নির্বাচনের দিন গুলিতে পুলিশের সতর্ক তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত। যে কারনে কোন বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটেনি। ছোট খাটো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া অত্যন্ত সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে অবাধ ও নিরোপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের বিরূদ্ধে দু’একটি অভিযোগ পাওয়া গেলেও পুলিশ বিভাগের বিরূদ্ধে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
যা পুলিশ বিভাগের জন্য বিরল দৃষ্টান্ত। পুলিশ সুপারের এসব ভালো কাজের জন্য নড়াইলের বিভিন্ন মহল থেকে তাঁকে সাধুবাদ ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, নড়াইলের মানুষ অত্যন্ত ভালো। এখানে অনেক জ্ঞানী গুনি মানুষ আছেন। তাদের সহযোগিতা থাকায় ভাল কাজ গুলি ভালভাবে করা সম্ভব হয়েছে। সর্ব স্তরের মানুষের সহযোগিতা পেলে আইন শৃংখলার আরোও উন্নতি করে তিনি নড়াইলকে আরোও শান্তিময় করে গড়ে তুলতে চান।


Be the first to comment on "নড়াইলের শান্তি শৃংখলায় বিরল দৃষ্টান্ত ॥ পুলিশ সুপার- সরদার রকিবুল ইসলাম"