শিরোনাম

এভারেস্টের নিচেই হিমবাহ হ্রদ!

নিউজ ডেস্ক : ভয়াবহ বন্যার আতঙ্ক কাটিয়ে মাউন্ট এভারেস্টের কাছে দৈত্যাকার হিমবাহ লেকের পানি বের করতে সামর্থ্য হল নেপাল। সফল এই প্রচেষ্টার ফলে বরফ গলা পানিতে ভেসে যাওয়ার থেকে বেঁচে গেল হাজার হাজার মানুষের জীবন।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে উদ্বেগজনক হারে গলে যাচ্ছে হিমালয়ের হিমবাহ। এর ফলে তৈরি হয়েছে বিশাল হিমবাহ লেক, যেটি যেকোনও দিন তীর ছাপিয়ে ভাসিয়ে দিতে পারে পাহাড়ি এলাকার মানুষদের। বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের মাত্র ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে ১৬,৪৩৭ ফিট উচ্চতায় রয়েছে নেপালের সবচেয়ে দ্রুত গতিতে ফুলেফেঁপে ওঠা হিমবাহ লেক ইমজা শো। গত বছর নেপালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর থেকেই এই লেকের পানি ছাপিয়ে বন্যার ভ্রূকুটি আতঙ্কে রেখেছিল স্থানীয়দের।

প্রকল্পের ম্যানেজার টপ বাহাদুর খত্রি জানিয়েছেন, ‘ঝুঁকি এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে সরকারের অন্যতম প্রধান গুরুত্বপূর্ণ টার্গেট ছিল এই জল বের করে দেয়ার ব্যবস্থা করা। আমরা সফলভাবে একটা বিপর্যয় রোধ করতে পেরেছি।’ গত ছয় মাসের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর পাঁচ মিলিয়ন কিউবিক মিটারের বেশি পানি বের করে পানিস্তর সাড়ে তিন মিটার কমাতে সক্ষম হয়েছেন সেনা জওয়ানরা। এই প্রকল্পে জাতিসংঘের ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রামের সঙ্গে একযোগে কাজ করেছে নেপাল সরকার।

১৫০ ফিট গভীর এই লেকের জল বের করতে কঠিন পরিশ্রম করেছেন নেপালের ৪০ জন সেনা জওয়ান ও শতাধিক স্থানীয় উঁচু এলাকায় কাজে পারদর্শী কর্মী। লেফটেন্যান্ট কলোনেল ভরতলাল শ্রেষ্ঠা জানিয়েছেন, তীব্র হাওয়া ও বরফের কারণে দিনে ২-৩ ঘণ্টার বেশি কাজ করা সম্ভব হয়নি। এটা একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল।

নেপালে ৩,০০০-এর বেশি হিমবাহ লেক রয়েছে। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক একটি রিপোর্টে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে এই শতাব্দীর শেষে এভারেস্টের হিমবাহ ৭০% বা সম্পূর্ণ গলে যাবে।

সূত্র: এই সময়

 

basic-bank

Be the first to comment on "এভারেস্টের নিচেই হিমবাহ হ্রদ!"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*