নিউজ ডেস্ক : জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় ভারতীয় সীমান্তে আবারো বন্যহাতি আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। উপজেলার ধানুয়াকামালপুর ইউনিয়নের যদুরচর এলাকায় হাতি নেমে আসায় এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এতে সীমান্তবর্তী পাঁচটি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয়রা জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভারতীয় বুনো হাতিরপাল সীমান্তবর্তী ধানুয়াকামালপুর ইউনিয়নের যদুরচর এলাকায় নেমে আসে। এসময় হাতির পাল বিভিন্ন বসতবাড়িতে হামলা চালায়। রাতভর হামলা চালিয়ে যদুরচর গ্রামের প্রায় ৫০হেক্টর জমির পাঁকা ধান নষ্ট করে।
রাতভর তান্ডব চালিয়ে মঙ্গলবার সকালে পাহাড়ের উচু টিলায় ফিরে যায়। ফিরে যাওয়ার আগে যদুরগ্রামের নজরুল ও ফরহাদের বাড়ী তছনছ করে বুনো হাতির দল।
মঙ্গলবার সকালে ফিরে গেলেও রাত সাড়ে ১০টায় পুন:রায় হাতির পাল যদুরচর গ্রামে নেমে আসে। বুধবার ভোর ৪টা পর্যন্ত হাতির পাল সীমান্তবর্তী স্থানে অবস্থান করছিল বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
যদুরচর গ্রামের বাসিন্দা আক্কাছ আলী জানান, ভারতীয় হাতির পাল আমাদের এলাকায় প্রবেশ করে আমন ধান ক্ষেত নষ্ট করছে। জীবন বাঁচাতে নিজ ঘরবাড়ী ছেড়ে আমরা এখন গ্রামছাড়া।
এদিকে, স্থানীয়দের অনেকেই জানান, ভারতীয় সীমান্ত রক্ষি বাহিনী (বিএসএফ) হাতির পালকে রাতের বেলায় তাড়িয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঢুকিয়ে দেয়। তাছাড়া রাতের অন্ধকারে (বিএসএফ) ভারত সীমান্তে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন লাইট জ্বালিয়ে রাখে। ফলে হাতির পাল আলো দেখে ভারতে যেতে ভয় পায়।
কামালপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, আতঙ্কিত লোকজনকে রাতের বেলায় অন্যত্র থাকার নির্দেশ দিয়েছি।
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাছান সিদ্দিক জানান, হাতি আগমনের খবর পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজনকে নিরাপদ দুরত্বে সরে থাকার নির্দেশ দেওয়াসহ হাতির তাড়ানোর জন্য কেরোসিন তেল দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, চলতি বছর ১০ আগষ্ট এই যদুরচর গ্রামে প্রথম বারের মত হাতি তান্ডব চালায়। এবং এই গ্রামের শফিউল্লাহ, গোলাম মোস্তুফা, দুলা মিয়া, নুর ইসলাম,আবদুল হামিদ, মনির হোসেন, আংগুরী বেগম, নুরুল ইসলাম, মোজাম্মেল হক ও রহিম মিয়ার ২০টি বসতঘর তছনছ, আসবাবপত্র, গাছপালা ভেঙে বিনষ্ট এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে। এছাড়া ঘরের ভিতর থাকা ধান, চাল খেয়ে সাবাড় করে হাতির পাল।

Be the first to comment on "জামালপুরে ভারতীয় সীমান্তে বন্যহাতি আতঙ্ক"