শিরোনাম

চেয়ারম্যান মতিয়ারের দুর্নীতির তদন্তে ‘দুদক’

চেয়ারম্যান মতিয়ারের দুর্নীতির তদন্তে ‘দুদক’

নিউজ ডেস্ক : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে ভিজিএফ’র চাল আত্মসাতের ঘটনায় অবশেষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, লোহাগড়া উপজেলায় একটি পৌরসভাসহ ১২ টি ইউনিয়নে গত পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে দরিদ্রদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরন করা হয়। উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরনে অনিয়ম ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। ঈদে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সরকার জনপ্রতি ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেয়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বরদের মাধ্যমে তা বিতরন করার নিয়ম থাকলেও মানেননী চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। বরং তিনি চাল আত্মসাত করেন। বরাদ্দকৃত ওই চাল (১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬) থেকে বিতরন শুরু হয়ে (১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬) শেষ হয়।

ভিজিএফ’র চাল আত্মসাতের ঘটনায় গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় সংবাদটি ছাপা হলে এলাকায় তোলপাড়ের সৃষ্টি। উক্ত ঘটনায় কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল অহেদ শেখ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শেষে আত্মসাতের ঘটনার সত্যতা পায় দুদক। মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারী) দুর্নীতি দমন কমিশন সম্মনিত জেলা কার্যালয় যশোরের সহকারি পরিচালক শহিদুল ইসলাম ও উপ-সহকারি পরিচালক তানভীর আহম্মেদ, ঘটনাস্থলে এসে দিনভর তদন্ত কাজ পরিচালনা করেন।

উপজেলার শালবরাত,পদ্মবিলা ও কাশিপুর তিন গ্রামের মানুষের চাল বিতরনের মাষ্টাররোলে নাম আছে কিন্ত চাল পায়নি এমন হাসিনা বেগম, সবেদা,জরিনা,শুকুরোন্নেছা,মোক্তার শেখ,ছাকিরন, মনিরা, ফজরোন্নেছা,জবেদা আঃ রাজ্জাক, রাজিব শেখ সহ কয়েকশ লোক লোহাগড়া উপজেলার হল রুমে দুদক কর্মকর্তার নিকট চাল না পাওয়ার বিষয়টি অভিযোগ করেন। ফজরোন্নেছা বলেন আমার স্বামী খোকন শেখ ১৫ বছর আগে মারা গেছে, তালিকায় তার নাম দিয়ে চেয়ারম্যার চাল ওঠায় খাইছে, গরিবের চাল চুরির ঘটনায় চোরের বিচার চান তিনি।

ইউপি সদস্য আঃ অহেদ শেখ সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, দুদকের তদন্তে সাক্ষী প্রমান হাজির রাখার জন্য আমাকে দৃদক কার্যালয় যশোর থেকে লিখিত নির্দ্দেশনা প্রদান করলেও তাহা বানচাল এবং তদন্ত ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান পুলিশ দিয়ে আমাকে সারাদিন হয়রানি করেন। আমাকে বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হয়নী। যাহার ফলে তালিকায় নাম থাকা চাল বঞ্চিত শতশত মানুষজনকে তদন্ত আদালতে হাজির করা সম্ভবপর হয়নী।

কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: রেজাউল করিম বলেন, আমার নাম ওই ভিজিএফ’র তালিকায় রয়েছে, আমিতো কোন দিন চাল পাইনি। আমার নাম রয়েছে হতদরিদ্রের তালিকায় এটা আমার জন্য লজ্জাকর ব্যাপার। তিনি গরিবের চাল আত্মসাতকারীর যথার্থ বিচার চান।

দুদক’র সহকারি পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, চাল আত্মসাতের বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে, আরও অধিকতর তদন্ত করে দোষিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যত বড়ই ক্ষমতাধর ব্যাক্তি হোক না কেন দুর্নীতি করে কেহ পার পাবেনা।

basic-bank

Be the first to comment on "চেয়ারম্যান মতিয়ারের দুর্নীতির তদন্তে ‘দুদক’"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*