শিরোনাম

অচলাবস্থায় ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো

নিউজ ডেস্ক : দেশজুড়ে কর্মরত ছোট ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে।মূলত নিয়ন্ত্রক সংস্থার নানা কঠোর শর্ত এবং বড় প্রতিষ্ঠানের সাথে অসম প্রতিযোগিতায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ফলে একের পর এক ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি গত ৫ বছরে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ) প্রায় ১০০ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়। সূত্র মতে, ক্ষুদ্রঋণ খাতে কঠোর বিধি-বিধানের কারণে অতীতের তুলনায় বিনিয়োগ সুযোগ কমে গেছে।আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেড়েছে খরচও।

তাছাড়া বিধি-বিধানের কারণে ক্ষুদ্রঋণ বাজারের বৈশিষ্ট্যও বদলে গেছে।ফলে বড় বড় প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের যেসব সুবিধা দিতে পারছে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো তা পারছে না।

এ অবস্থায় ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকাটাই এখন চ্যালেঞ্জিং। কারণ এমআরএ যে আইন বা বিধি-বিধান করেছে তা সবার পক্ষে অনুসরণ করা সম্ভব নয়। আবার বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ছোট প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের নিয়ে নিচ্ছে।

বড় প্রতিষ্ঠানগুলো আমানতে বেশি সুদ দিচ্ছে এবং ঋণের বেলায় পরিমাণে বেশি দিচ্ছে।যা ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো পারছে না। ফলে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আবার ছোট প্রতিষ্ঠানের তহবিল সঙ্কটও রয়েছে। ব্যাংক ও পিকেএসএফ কেউই তাদের অর্থায়ন করে না।

সূত্র জানায়, ক্ষুদ্রঋণ খাতকে আইন-কানুনের অধীনে পরিচালনার লক্ষ্যে ২০০৬ সালে সরকার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে এমআরএ প্রতিষ্ঠা করে।

তখন সারাদেশ থেকে ৪ হাজার ২৪১টি প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স বা সনদের জন্য আবেদন করে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাইয়ে এক হাজার প্রতিষ্ঠানের আবেদন নাকচ করে এমআরএ।

তারপর যাচাই-বাছাইয়ে সংস্থাটি আরো ২ হাজার ৪৫৪টি প্রতিষ্ঠানের আবেদন বাতিল করে।আর বাকি ৭৮৭টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দেয়া হয়।

তবে ২০১১ সালে এমআরএ ৪টি, ২০১২ সালে ১৭টি, ২০১৩ সালে ১৯টি, ২০১৪ সালে ১৬টি, ২০১৫ সালে ৮টি এবং চলতি ২০১৬ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ১৫টি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করেছে।

সবশেষ বাতিল হয়েছে অনগ্রসর শিশু শিক্ষা প্রকল্প (ইউসেপ) বাংলাদেশের সনদ। বর্তমানে সারাদেশে ৬৮১টি প্রতিষ্ঠান এমআরএর লাইসেন্স নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।তাছাড়া ১৮৯টি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা পরিচালনার জন্য সাময়িক অনুমতি দিয়েছে এমআরএ।

সূত্র আরো জানায়, এমআরএর নীতিমালা অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানকে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হলে কমপক্ষে এক হাজার সদস্য অথবা ৪০ লাখ টাকার ঋণ স্থিতি থাকতে হবে।

কোনো প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করলে তার গ্রাহকদের আমানতের সর্বোচ্চ ৮৫ ভাগ, প্রতিষ্ঠানের ক্রমপুঞ্জীভূত উদ্বৃত্তের ৫০ শতাংশ এবং ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেয়া ঋণের ১০০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করতে পারে। তবে ওই তিনটির যোগফলের ৯০ শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করতে পারে না।

পাশাপাশি ঋণখেলাপি হলে তার বিপরীতে প্রভিশন রাখতে হয়। এদিকে বতমানে দেশে ক্ষুদ্রঋণ খাতে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রায় ৩ কোটি গ্রাহক রয়েছে। তারমধ্যে আড়াই কোটি ঋণ গ্রহীতা।

প্রতিষ্ঠানটিতে বছরে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ বিতরণ হয়।আর ওই খাতের ৯৫ শতাংশেরও বেশি ঋণ আদায় হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার সঞ্চয় রয়েছে।

এ বিষয়ে এমআরএ পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন জানান, ক্ষুদ্রঋণ একটি অলাভজনক কার্যক্রম। অনেকেই মনে করেন তাতে ব্যবসা হবে।

কিন্তু যখন দেখেন ব্যবসা হচ্ছে না তখন আবার তা গুটিয়ে নিচ্ছেন।তাছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় বা পোর্টফলিও কমে আসায় সেগুলো বন্ধ হচ্ছে।

basic-bank

Be the first to comment on "অচলাবস্থায় ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*