নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের প্রধান নদ-নদীর পানি কমতে থাকায় নতুন করে এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা নেই বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে।
তবে চলতি মাসের মাঝামাঝি ফের বন্যা হতে পারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী রিপন কর্মকার মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে বলেন, দেশের মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি একই রকম থাকলেও উত্তরাঞ্চলে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
“বহ্মপুত্র-যমুনা এবং সুরমা-কুশিয়ারা নদ-নদীর পানি কমছে। এতে গাইবান্ধা, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ার বন্যা পরিস্থিরি উন্নতি অব্যাহত থাকবে। এছাড়া গঙ্গা-পদ্মা স্থিতিশীল রয়েছে, যার জন্য রাজবাড়ি, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর এলাকায় বন্যা পরিস্থিতিও স্থিতিশীল থাকতে পারে।”
বৃহস্পতিবারের দিকে কুড়িগ্রাম বন্যামুক্ত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন রিপন কর্মকার।
তবে এখনও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৯০টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ১৮টি পয়েন্টে বিপদসীমার ওপরে পানি বয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক সামছুদ্দিন আহমেদ অগাস্ট মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানান, এ মাসের দ্বিতীয়ার্ধে গঙ্গা, বহ্মপুত্র ও মেঘনা অববাহিকায় ‘স্বাভাবিক’ বন্যা হতে পারে।
অগাস্টে সব বিভাগে গড়ে ১৪-১৯ দিন বৃষ্টির আভাস রয়েছে। এবারের বন্যায় দেশের ১৬ জেলার ৭২ উপজেলার ৩৭৮টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের জরুরি সাড়াদান কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছালেহ উদ্দিন জানান, বন্যায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৯১৪টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে ১৫ হাজার ১১২টি পরিবারের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
আবহাওয়াবিদ মো. রাশেদুজ্জামান জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
সোমবার সাগরে লঘুচাপটি তৈরি হয়। এর প্রভাবে দেশের সব বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি রয়েছে। আগামী ৫ দিন বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

Be the first to comment on "আপাতত ‘উন্নতি’ হলেও ফের বন্যার শঙ্কা"