শিরোনাম

গাজীপুরে পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে ৯ ‘জঙ্গি’ নিহত

নিউজ ডেস্ক : গাজীপুরের নোয়াগাও পাতারটেক এলাকায় সন্দেহভাজন সাত জঙ্গির মরদেহ পাওয়া গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন। শনিবার সকালে সেখানে অভিযান চালায় কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। এর আগে শনিবার ভোরে গাজীপুরের পশ্চিম হারিনালে জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযানে নিহত হন দুই জঙ্গি। দুটি পৃথক অভিযানে একই দিনে গাজীপুরে ৯ জঙ্গি নিহত হয়েছে। গাজীপুরের দ্বিতীয় অভিযানে সিটিটিসির সঙ্গে সোয়াত টিম যুক্ত ছিলো। সেখানে গোলাগুলি চলে বিকাল পৌনে চারটা পর্যন্ত। নব্য জেএমবির ঢাকা বিভাগের কমান্ডার ফরিদুল ইসলাম আকাশ ও তার সহযোগীরা সেখানে অবস্থান করছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। ঘটনাস্থলে থেকে বেশ কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানান সিটিটিসির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার ছানোয়ার হোসেন। কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান তদারক করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান ও জাবেদ পাটোয়ারীও ছিলেন সেখানে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর রশিদও ছিলেন ঘটনাস্থলে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের জানান, ভবনের দ্বিতীয় তলায় সাত জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার পর আকাশের নেতৃত্বেই নব্য জেএমবি সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করেছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের শুরুতে জঙ্গিদের আত্মসমর্পন করতে বলা হয়। কিন্ত তা না করে তারা উল্টো পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশও আত্মরক্ষায় গুলি চালায়। পরে ভবনের দ্বিতীয় তলায় সাত জঙ্গির মরদেহ পাওয়া যায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এখানে যারা ছিল, সবাই জঙ্গি গ্রুপের সঙ্গে জড়িত। কিছু একটা করার জন্য তারা এখানে ছিল।
যে বাড়িতে পুলিশের অভিযান চলে, তার মালিক সৌদি প্রবাসী সোলেমান সরকারের। তার ভাই কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আরবি শিক্ষক ওসমান গণি বাড়িটি দেখাশোনা করেন।
তিন মাস আগে তার কাছ থেকে তিনজন বাড়িটির দোতলা ভাড়া নেয়। ওই তিনজন জঙ্গি বলে ধারণা পুলিশের। অভিযান শুরুর পর জঙ্গিরা ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে বলে জানান কাউন্টার টেররিজমের প্রধান মনিরুল।
তিনি দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, নিচতলায় থাকা বাড়ির সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পর দোতলায় থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল। ‘আত্মসমর্পণ করতে বললে জঙ্গিরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দিকে জানালা দিয়ে গুলি করছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীও তখন পাল্টা গুলি করছে।’

জয়দেবপুর থানার ওসি রেজাউল হাসান রেজা বলেন, আফারখোলা পাতারটেক এলাকার দোতলা বাড়িটিতে অভিযান শুরুর আগে এর আধা কিলোমিটার পশ্চিমে হারিনাল এলাকার একটি বাড়িতে র‌্যাব অভিযান চালায়।
হারিনাল অভিযানে দুজন নিহত হওয়ার খবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিশ্চিত করেন র্যানবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান। তিনি বলেন, নিহতদের একজন রাশেদুল (২০) এবং অন্য জন তৌহিদুল ইসলাম (২২) বলে বাড়ির মালিক আতাউর জানিয়েছেন।
ওই বাড়ি থেকে একটি একে-২২ রাইফেল, একটি পিস্তল, রাইফেলের ৭০ রাউন্ড গুলি, কিছু বিস্ফোরক ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধারের কথা জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।
গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার পর বিভিন্ন জঙ্গি আস্তানার খোঁজে নেমেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। কয়েকটি অভিযানে বেশ কয়েকজন জঙ্গি নিহতও হয়েছেন। এরপর গাজীপুরে এক দিনে দুটি আস্তানায় অভিযান হল, যাতে নিহত হলেন নয়জন। এছাড়াও একই দিনে টাঙ্গাইলেও এক আস্তানায় অভিযানে নিহত হয়েছেন দুই জঙ্গি। আজ শনিবার ১১ জঙ্গি নিহত হয়েছেন।

basic-bank

Be the first to comment on "গাজীপুরে পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে ৯ ‘জঙ্গি’ নিহত"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*