নিউজ ডেস্ক : টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিনিময় পরিবহনের যাত্রীবাহি চলন্ত বাসে এক নারী গণধর্ষণের ঘটনায় আরও ৫ আসামীকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত। বুধবার দুপুরে এ মামলার অপর ৫ আসামী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক হামিদুল ইসলাম তাদের জামিন আবেদন বাতিল করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আসামী হলো- টাঙ্গাইল জেলা বাস কোচ মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ইলিয়াস, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক লাভলু, সাংগঠনিক সম্পাদক জালু, প্রচার সম্পাদক সেলিম ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর লতিফ। এছাড়া অপর আসামী পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি সেলিম এখনও পলাতক রয়েছে।
গত শুক্রবার গভীর রাতে ধনবাড়ি থানায় ধর্ষিতার স্বামী বখতিয়ার মিয়া বাদি হয়ে তিন ধর্ষক ও তাদের সাথে সহায়তাকারী ৬জনসহ মোট ৯জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। ইতিপূর্বে গ্রেফতারকৃতরা হওয়া ধনবাড়ি থানার নিজবর্নী গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে বাসের চালক হাবিবুর রহমান নয়ন, একই গ্রামের মোতালেব মিয়ার ছেলে বাসের সুপারভাইজার রেজাউল করিম রেজা ও একই থানার দয়ারামবাড়ি গ্রামের আরশেদ আলীর ছেলে বাসের হেলপার খালেক আলী ভুট্রো আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছে।
উল্লেখ, গত বৃহস্প্রতিবার দুপুরে ধনবাড়ির দত্তবাড়িগ্রামে ওই নারী তার খালার বাড়ি বেড়াতে যান। শুক্রবার সকাল ৫টার সময় গাজিপুরের চন্দ্রার উদ্দেশ্যে ধনবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে বিনিময় পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। বাসে কোন যাত্রী না থাকায় গেট আটকিয়ে গাড়িটি ছেড়ে দেন স্টাফরা। বাস কিছুক্ষণ চলার পর তিন স্টাফ ওই মহিলাটির কাছে এসে বসে। এরপর তাকে কু-প্রস্তাব দেয়। মহিলাটি তাতে সাড়া না দিলে তার মুখ চেপে ধরে। এরপর তারা তাকে জোরপূর্বক গণধর্ষন করে। এ সময় মহিলাটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। জ্ঞান ফিরলে গাড়ির মধ্যেই সে চিৎকার করতে থাকে। তারা ওড়না দিয়ে মহিলাটির মুখ বেঁেধ রাখে। পরে চালক ঢাকার দিকে না এসে গাড়িটি ময়মনসিংহের দিকে নিয়ে যায়। মধুপুর সড়কের ফাঁকা একটি স্থানে মহিলাটিকে নামিয়ে দিয়ে তারা চলে যায়। রাস্তায় মহিলাটির আর্তচিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। এ সময় তারা ওই নারীর স্বামীর কাছে ফোন করে। সে মধুপুর এসে তার স্ত্রীকে নিয়ে টাঙ্গাইলে আসেন।
ধর্ষিতা নারীর স্বামী ও মামলার বাদি বলেন, ঘটনা জানার পর আমি মধুপুরে চলে আসি। এরপর স্ত্রীকে নিয়ে টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ডে আসি। আমি দীর্ঘদিন টাঙ্গাইলে গাড়ি চালিয়েছি। বর্তমানে গাজিপুরের চন্দ্রায় লেগুনা চালাই। বাসস্ট্যান্ডে আসলে কয়েকজন শ্রমিক নেতা ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য আমাকে চাপ দেয়। তারা আমার স্ত্রীকে দুশ্চরিত্র মহিলা বলে গালিগালাজ করে। কাউকে কিছু না বলার জন্য শাসিয়ে দেয়। পরে দুপুরে আমার স্ত্রীকে এনে হাসপাতালে ভর্তি করি। আমি তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।

Be the first to comment on "চলন্ত বাসে নারী গণধর্ষণ : আরও ৫ আসামী জেলহাজতে"