শিরোনাম

ছয় প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

নিউজ ডেস্ক : আখাউড়া-আগরতলা (বাংলাদেশ অংশ) ডুয়েলগেজ রেল লাইন নির্মাণ করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ১৪ কিলোমিটারের বেশি এ রেলপথ নির্মিত হলে ত্রিপুরাসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্য রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়বে। তাছাড়া এটি হলে বিদ্যমান আগরতলা-কলকাতা রেলপথ ব্যবহার করে ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থেকেই কলকাতা পর্যন্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন করা যাবে। এ সংক্রান্ত একটি উন্নয়ন প্রকল্পে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এ প্রকল্পে অনুমোদন দেয়া হয়।  প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন  শেখ হাসিনার এতে সভাপতিত্ব করেন। সভায় আখাউড়া-আগরতলা রেললাইন নির্মাণসহ মোট ছয়টি নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে বৈদেশিক সাহায্য ৪২১ কোটি টাকা। অবশিষ্ট অর্থ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে  দেয়া হবে।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। এ সময় পরিকল্পনা সচিব তারিক-উল-ইসলাম এবং সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সিনিয়র সদস্য ড. শামসুল আলমসহ পরিকল্পনা কমিশনের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ‘আখাউড়া-আগরতলা ডুয়েলগেজ রেল সংযোগ নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলার মধ্যে নতুন  রেলরুট হবে। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৪৭৮  কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারত সরকারের ৪২১ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে পাওয়া যাবে। বাকি ৫৭ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল  থেকে দেয়া হবে। ২০১৬ জুলাই থেকে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর  মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন  করবে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় সম্পাদিত যৌথ ইশতেহারের একটি অন্যতম কার্যক্রম। আঞ্চলিক বাণিজ্যসহ বিভিন্ন দিক বিবেচনায় প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। এটি বাস্তবায়নে যাতে অতিরিক্ত সময় না লাগে সেদিকে বিশেষ মনোযোগ দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।  প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এর মাধ্যমে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্ক এবং উপ-আঞ্চলিক কানেকটিভিটির ক্ষেত্রে একটি নতুন করিডোর স্থাপিত হবে। প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ অংশে ১০ দশমিক ১ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ মেইন লাইন এবং ৪ দশমিক ২৫ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ লুপলাইন নির্মাণ করা হবে। আর আগরতলা অংশে হবে ৫ কিলোমিটার রেলপথ, যা নির্মাণ করবে ভারত।  বাংলাদেশ অংশে এটি আখাউড়া-চট্টগ্রাম রেলপথের গঙ্গাসাগর স্টেশনে এসে মিলিত হবে। তারপর বিদ্যমান রেললাইনের পূর্ব পাশ দিয়ে সমান্তরালভাবে আখাউড়া জংশনে মিলিত হবে। আর ভারত অংশের আগরতলা রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে বের হয়ে নিশ্চিন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করবে এ রেলপথ। নিশ্চিন্তপুরে হবে সীমান্ত ষ্টেশন ও রেল ইয়ার্ড। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমল থেকেই বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে একাধিক  রেলরুট ছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির পর একে একে  সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ততকালীন পূর্ব বাংলার সঙ্গে ত্রিপুরার রেল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময়।  বর্তমানে ঢাকা-কলকাতা রেলরুটটি চালু আছে।

অন্য একটি প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, এখন থেকে অবকাঠামো নির্মাণের বড় প্রকল্পের পাশাপাশি ছোট ছোট প্রকল্প হাতে নেয়া হবে। বর্তমানে প্রকল্পের সংখ্যা হচ্ছে  ১২০০। এটি বেড়ে ১৫০০ হবে। পিছিয়ে পড়া মানুষদের অর্থনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসতে এসব ছোট ছোট প্রকল্প নেয়া হবে।  যাতে তারাও প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারে। এর অংশ হিসেবে কামার, কুমার, বেদে,  জেলে, নাপিত, কাঠমিস্ত্রি, মিষ্টির কারিগর ও বাঁশ বেতের যারা কাজ করেন তাদের জন্য প্রকল্প নেয়া হবে।

অনুমোদিত অন্য পাঁচ প্রকল্প ॥ সভায় কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপে একটি বাঁধ পুননির্মাণ ও প্রতিরক্ষা কাজ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। প্রায় ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে টেকনাফের কয়েকটি ইউনিয়ন বন্যা থেকে রক্ষা পাবে। এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, বাঁধ নির্মাণের সময় পাড় মজবুত করে বেঁধে গাছ লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পের বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে জুলাই ২০১৬ হতে জুন ২০২১ পর্যন্ত।  যশোরের ভৈরব নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ২৭৩ কোটি টাকা, যার পুরোটাই জিওবি। অনুমোদন পেয়েছে চট্টগ্রাম জেলার উপকূলীয় এলাকা সীতাকু- এবং মিরসরাই এবং সন্দ্বীপ এলাকার পোল্ডার পুনবার্সন প্রকল্প।  ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এই তিনটি উপজেলা জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পাবে। প্রকল্পটির কার্যকাল ধরা হয়েছে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত। নগর প্রান্তিক মহিলা উন্নয়ন দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পটিও অনুমোদন পেয়েছে।  ৮৬ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২০২০ সালের মধ্যে শহর এলাকার দরিদ্র নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) কমপ্লেক্স্রের তৃতীয় পর্যায়ের প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক।  এর আওতায় বর্তমান ভবনটির ৮ম তলা থেকে ১১ তলা পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা হবে। এজন্য ব্যয় হবে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা।

 

basic-bank

Be the first to comment on "ছয় প্রকল্প একনেকে অনুমোদন"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*