নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ রোধে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
তিনি আজ সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্যে নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের কাজী নাবিল আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, সবধরনের জঙ্গিবাদ, নাশকতা ও সহিংসতার সাথে জড়িত ও হুকুম দাতাদের আইনের আওতায় আনতে ও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার পুলিশসহ সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহকে নির্দেশ প্রদান করেছে। তিনি বলেন, জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্যে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনসাধারণের সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তাসহ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, সকল প্রকার সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ওয়ারেন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ নিয়মিত মামলার আসামী গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক এবং মাদকদ্রব্যসহ সকল ধরনের অবৈধ মালামাল উদ্ধারে পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। সকল প্রকার নাশকতা, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও সহিংসতা প্রতিরোধে সভা-সমাবেশে আলোচনা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী হামলা সংক্রান্ত মামলার রহস্য উদঘাটনে সফলতার পরিচয় দিয়েছে। সন্ত্রাসী, হামলা, অগ্নিসংযোগ, বোমা হামলা, সহিংসতা ও নাশকতার ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, কূটনৈতিক ও বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় পুলিশ কর্তৃক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের কর্মকান্ড ও গতিবিধি সম্পর্কে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পর্যটন এলাকায় ভ্রমণকারী বিদেশী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের নিরাপত্তা কার্যক্রম অধিকতর জোরদার, বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত ও অবস্থানরত বিদেশী নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। রাজধানীতে প্রতিটি থানা এলাকায় নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে এবং থানা এলাকার বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়াদের নাম ঠিকানাসহ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দেশ ও বিদেশে যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ প্রদানের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে এবং পুলিশের জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যানবাহন, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি সংযোগ করা হচ্ছে ও পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপের ফলে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মানুষ ন্যায় বিচার পাচ্ছে। ফলে শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিকভাবে দেশী বিদেশী নাগরিকরা তাদের জীবনযাপন ও ব্যবসা বাণিজ্য পরিচালনা করছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কারণে বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি দৃঢ়তর হচ্ছে। সূত্র: বাসস
‘জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’
ফাইল ছবি
Be the first to comment on "‘জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’"