নিউজ ডেস্ক: সারা বছর ঢিমে তালে কাজ চললেও বৈশাখী মেলার জন্য ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা।
নববর্ষকে ঘিরে মাসজুড়ে দেশের নানা এলাকায় বসে এসব মেলা। ঘরে ঘরে চলে উৎসব। এ মেলাকে ঘিরে নানা পেশার মানুষ বাড়তি আয়ের পথ খোঁজেন।
ফরিদপুর শহরের লক্ষ্মীপুরের পালপাড়া, ভাজনডাঙ্গা পালপাড়ার মৃৎশিল্পীরাও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। মাটি দিয়ে নানা সামগ্রী তৈরিতে মগ্ন তারা।
পালপাড়ার মৃৎশিল্পী সত্যনারায়ণ পাল ও সুকদেব পাল জানান, বছরের অন্য সময়ে মাটির সামগ্রীর চাহিদা বেশি না থাকলেও বৈশাখ মাসে চাহিদা অনেকটাই বেড়ে যায়।
নতুন বছর উদযাপন ও বৈশাখী মেলার কারণে জেলার মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততাও বেশি থাকে বলে জানান তারা।
এ সময়ে জেলার সব পালপাড়ায় দেখা যায় চাকা ঘুরিয়ে মাটি প্রক্রিয়াকরণ করে নিপুণ হাতে তৈরি হচ্ছে ফুলদানি, মাটির ব্যাংক, পুতুল, গরু, ঘোড়া, হাতি ও পাখিসহ নানা বাহারি সামগ্রী।
বৈশাখী মেলায় মাটির দৃষ্টিনন্দন এসব সামগ্রীর ছোট-বড় সব বয়সের মানুষকেই আকৃষ্ট করে।
এ সময়টাতে মাটির তৈরি এসব তৈজসপত্র বিক্রিও হয় ভালো। তাই পুরুষের পাশাপাশি পালবাড়িগুলোর নারীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন এসব তৈরিতে।
মেলায় পাঠানোর আগে মাটির খেলনায় পড়ছে রং-তুলির শেষ আঁচড়।
বিপ্লব পাল বলেন, “এখন এ শিল্পের চাহিদা অনেকটা মেলাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত দাম দিয়ে মাটি কিনে এসব সামগ্রী তৈরি করা হলেও অন্য সময়ে সে অনুযায়ী মূল্য পাওয়া যায় না।
“এই কারণেই আমাদের ছেলে-মেয়েদের অন্য পেশায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।”
সুনীল পাল বলেন, “যে সময় ও পরিশ্রম দিয়ে কাটির কাজ করতে হয় সে অনুযায়ী পারিশ্রমিক পাই না আমরা ।
এ প্রসঙ্গে ফরিদপুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চৌধুরী কুশল বলেন, “আধুনিক যুগের ছোঁয়ায় এই মৃৎশিল্প আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।
“এই শিল্পকে বাঁচাতে হলে সরকারিভাবে সহায়তার হাত বাড়াতে হবে।”
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Be the first to comment on "টেপা পুতুলে চড়ছে রঙের শেষ পরত"