নিউজ ডেস্ক: নৌ শ্রমিকদের ধর্মঘটের মধ্যে মালিকদের উদ্যোগে ঢাকার সদরঘাট থেকে সীমিত পরিসরে লঞ্চ ছাড়লেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রীদের।
প্রয়োজনের তুলনায় কম সংখ্যক লঞ্চ ছাড়ায় এই ভোগান্তি বলে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়।
শুক্রবার সকালে সদরঘাটে লঞ্চের অপেক্ষায় যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। অনেক নারী ও শিশুকেও তাদের মধ্যে দেখা যায়।
সকালে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বরিশালের উদ্দেশ্যে গ্রিনলাইন লঞ্চটি ছেড়ে গেলেও ভোগান্তিতে পড়তে হয় চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়া যাত্রীদের।
বিআইডাব্লিউটিএর পরিবহন পরিদর্শক হুমায়ন আহমেদ জানান, সকালে গ্রিনলাইন সময় মতো ছেড়েও গেলে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে শুধু এমভি ফারহান-১ নামের একটি লঞ্চ ছেড়ে গেছে।
স্বাভাবিক সময়ে বরিশাল থেকে যাত্রী নিয়ে সকালে যেসব লঞ্চ সদরঘাটে আসে সেগুলো পরবর্তী যাত্রা করে বিকালের পর থেকে। তবে সকালে সদরঘাট থেকে চাঁদপুর ও তার আশপাশের লঞ্চগুলো ছেড়ে যায়।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকালের পালায় চাঁদপুরের কোনো লঞ্চই যাত্রী নিতে সদরঘাটে না ভেড়ায় বরিশাল রুটের এমভি ফারহান-১ দিয়ে কাজ চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে এই একটি মাত্র লঞ্চে যাত্রীদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেককেই অপেক্ষায় থাকতে হয়।
এছাড়া লঞ্চটিতে চাঁদপুরগামী লঞ্চের মতো কেবিন না থাকায়ও অনেককে পিছিয়ে যেতে হয়। তাদের একজন শরিফুল ইসলামের সঙ্গে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কথা হয়।
গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরের ইচলিতে যাওয়ার জন্য স্ত্রী রাবেয়াকে সঙ্গে নিয়ে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সদরঘাটে আসেন শরিফুল।
“ঘাটে এসে লঞ্চ না দেখে হতাশ হয়ে পড়ি। পরে মাইকে এমভি ফারহান-১ এর যাওয়ার ঘোষণায় আশাবাদী হলেও কেবিন না পাওয়ায় আর যাওয়া হয়নি। ঘাটেই অপেক্ষা করতে থাকি।”
পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে চাঁদপুরগামী ময়ূর-২ লঞ্চে ওঠেন তিনি।
সকালে সদরঘাট থেকে পাঁচ থেকে ছয়টি লঞ্চ চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছাড়ার কথা থাকলেও সূচি অনুযায়ী শুধু এই লঞ্চটি ছেড়ে যায় বলে ঘাট কর্মকর্তারা জানান।
মজুরি বাড়ানোসহ ১৫ দফা দাবিতে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ জাহাজি শ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে বুধবার রাত ১২টা থেকে সারা দেশে নৌযান ধর্মঘট চলছে। ধর্মঘটের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার যাত্রীদের ব্যাপক ভোগান্তির মধ্যে লঞ্চ চালানোর ঘোষণা দেয় মালিকপক্ষ।
তবে ওই দিন সদরঘাট থেকে ছেড়ে গেছে ১৯টি লঞ্চ, যেখানে অন্যান্য দিন দেশের দক্ষিণ জনপদের বিভিন্ন গন্তব্যে ৫০টির বেশি লঞ্চ ছেড়ে যায় বলে বিআইডাব্লিউটিএর পরিদর্শক হুমায়ন জানান।
এদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যাত্রী নিয়ে সকালে সদরঘাটে এসেছে ১১টি লঞ্চ, যেখানে অন্যান্য সময় অর্ধশতাধিক লঞ্চ ঢাকা আসে।
মালিকপক্ষ ঘোষণা দেওয়ার পরও সকালে সদরঘাটে লঞ্চ কম থাকার কারণ জানতে চাইলে নাম না প্রকাশ করার শর্তে এক মালিক বলেন, “শিডিউল অনুযায়ী চাঁদপুরগামী লঞ্চগুলো যাত্রী পরিবহনে না আসায় এটা হয়েছে।”
তবে দিনের পরের ভাগে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Be the first to comment on "নৌ ধর্মঘটে দ্বিতীয় দিনের ভোগান্তি"