শিরোনাম

পাক সেনাদের মুণ্ডু কাটা নিয়ে ভারতীয় রাজনীতি

নিউজ ডেস্ক : উরি হামলার পর পাক-ভারত জড়িয়ে পড়ে নতুন রাজনৈতিক জটিলতায়। ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর দুই দেশের মধ্যকার যুদ্ধাংদেহী মনোভাব চূড়ান্ত রূপ নেয়। আর এরইমধ্যে সামনে এলো মনমোহন সিংয়ের সময়কার ‘আরও বড়’ সেনা হামলার তথ্য। সেই ঘটনার কথা তুলে ধরেই প্রতিযোগিতায় নামার চেষ্টা করল কংগ্রেস। দুই ভারতীয় জওয়ানের মুণ্ড কেটে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশোধ নিতে নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে গিয়ে তিন পাকিস্তানি সেনার মুণ্ড কেটে এনেছিলেন ভারতীয় জওয়ানরা। ২০১১ সালের সেই ঘটনা নিয়ে আবারও চর্চা শুরু হয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

২০১১ সালে জুলাই মাসে জম্মু-কাশ্মীরের কুপওয়ারা অঞ্চলে পাকিস্তানি ‘বর্ডার অ্যাকশন টিম’ ভারতীয় পোস্টে আকস্মিক হামলা করে দুই জওয়ানের মুণ্ডচ্ছেদ করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার জেরে ভারতীয় বাহিনী সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। সে বছরই অাগস্টের শেষ দিকে হামলাটি চালানো হয়েছিল। ভারতীয় সেনা তিন পাকিস্তানি সেনার মুণ্ড কেটে নিয়ে আসে বলে শোনা গিয়েছিল। এক সংবাদপত্রে এই খবর প্রকাশের পর সেই সময় এই অপরাশনের দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এস কে চক্রবর্তী এই খবরের সত্যতা স্বীকার করে বলেছিলেন, “বদলা নেওয়ার জন্য এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করা হয়েছিল।”

পাক অধিকৃত কাশ্মীরে সেনার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পর থেকে এই অভিযানের কৃতিত্বের দাবি করে বিজেপি ভোটমুখী উত্তরপ্রদেশে আস্ফালন শুরু করেছে, তাতে কংগ্রেস বেশ ব্যাকফুটে ছিল। ২০১১ সালের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের কথা সামনে আসার পর কংগ্রেস কিছুটা অক্সিজেন পেয়েছে। রাহুল গান্ধীর ‘রক্তের দালালি’ মন্তব্যের পর বিজেপি নেতৃত্ব দলের কর্মীদের যে ভাবে তাতিয়ে দিয়েছেন, তাতে উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় রাহুলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়ে গিয়েছে। এর মোকবিলা করতে একটি অস্ত্র পেয়ে গেল কংগ্রেস। সেনার কৃতিত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমে কংগ্রেসের নেতা মণীশ তিওয়ারি গতকাল বলেন, “২০১১ সালে তো ভারতীয় সেনা তিনজনের মুণ্ড এনেছিল, এবারের সেনা হামলায় কতজনের মুণ্ড এনেছে ভারতীয় সেনা?”

কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মা বলেন, “কংগ্রেসের জমানাতেও ভারতীয় সেনা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছিল। কিন্তুব সেটির রাজনৈতিক কৃতিত্ব নিয়ে ঢাক পেটানোর দরকার হয়নি।” গতকাল লক্ষ্ণৌতেও বড় জনসভা করে মায়াবতী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেছেন, “ভারতীয় সেনার অভিযান নিয়ে অহেতুক রাজনীতি করছেন প্রধানমন্ত্রী। সে কারণেই দশমীতে লক্ষ্ণৌতে আসছেন তিনি।”

প্রধানমন্ত্রী মোদি অবশ্য তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বলেছেন, সেনাকে আরও শক্তিশালী হতে হবে। কিন্তু সেনার কসরতে প্রতিবেশির ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সকালে উঠে কেউ যদি ব্যায়াম করেন, সেটি তার নিজের জন্য। প্রতিবেশিকে ভয় পাওয়ানোর জন্য নয়।

এদিকে বিজেপির এক নেতা বলেন, আজ পর্যন্ত কেউ বলেনি, সেনাবাহিনী অতীতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেনি। কিন্তু এটিকে প্রকাশ্যে এনে গোটা দুনিয়ায় পাকিস্তানকে একঘরে করার ক্ষমতা একমাত্র নরেন্দ্র মোদিরই আছে। আজ সেনা অভিযানের কথা প্রকাশ্যে এনেও গোটা দুনিয়ার সমীহ আদায় তিনিই করতে পারেন। ফলে অবশ্যই তা নিয়ে দল প্রচার করবে। কংগ্রেস তাদের জমানায় এই দাপট দেখাতে পারেনি। এখন মোদির দেখাদেখি পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে লাভ কী?

basic-bank

Be the first to comment on "পাক সেনাদের মুণ্ডু কাটা নিয়ে ভারতীয় রাজনীতি"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*