নিউজ ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটি হঠাৎ অবতরণে বাধ্য হওয়ার ঘটনায় ৩টি তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এটিকে মনুষ্যসৃষ্ট সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন আজ বিকেলে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ওই তিনটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে বিমানটির অয়েল প্রেশারে সমস্যা ছিল এবং এর নাট-বল্টু ঢিলে অবস্থায় ছিল। এ সমস্যাকে মনুষ্যসৃষ্ট উল্লেখ করে বিষয়টি নাশকতা ছিল কিনা তা তদন্তে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সহায়তা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে মামলা করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, মেনন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ক্ষতি হয়নি, কিন্তু এর চেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন আর আসতে পারে না। তিনি শুধু সরকার প্রধানই নন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা। তার জীবননাশের জন্য বহুবার চেষ্টা হয়েছে।”
তবে কার কার নামে মামলা করা হবে সে বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য না করে বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে পরামর্শ করে করা হবে বলে জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ নভেম্বর হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তা তুর্কমেনিস্তানের আশখাবাদে জরুরি অবতরণ করে। সেখানে ত্রুটি সারিয়ে চার ঘণ্টা পর বুদাপেস্টের উদ্দেশে যায় বিমান।
ওই উড়োজাহাজের ইঞ্জিন অয়েলের ট্যাংকের একটি নাট ঢিলে হওয়ার পেছনে নাশকতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ২৮ নবেম্বর পাঁচ সদস্যের কমিটি করে বিমান মন্ত্রণালয়।
ঘটনা তদন্তে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) আরও দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। এই দুই কমিটি এরই মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে।
এই ঘটনায় এ নিয়ে দুই দফায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নয়জনকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

Be the first to comment on "প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের ত্রুটি মনুষ্যসৃষ্ট: বিমানমন্ত্রী"