নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থায় কর্মরত আরেক কন্ট্রাক্টরকে গ্রেপ্তার করেছে। অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেনের মতো একেও নিয়োগ দিয়েছিলেন বুজ অ্যালেন হ্যামিল্টন। ধারণা করা হচ্ছে, এই কন্ট্রাক্টরও এনএসএর একটি উচ্চ পর্যায়ের তথ্য চুরি ও ফাঁস কেলেঙ্কোরির সঙ্গে জড়িত। খবর নিউইয়র্ক টাইমস এর।
হ্যারল্ড থমাস মার্টিন তৃতীয় নামের এই ৫১ বছর বয়সী কন্ট্রাক্টর এনএসএর শীর্ষ গোপন কম্পিউটার কোড চুরি করেছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে। ওই কোড সংস্থাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি শত্রুদের কম্পিউটার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার কাজে ব্যবহার করত।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সরবরাহ করা তথ্য মতে, গত ২৭ আগস্ট ম্যারিল্যান্ডে মার্টিনের বসতবাড়িতে একটি পরোয়ানার ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশিতে মার্টিনের বাড়িতে শীর্ষ গোপনীয় তথ্যাদির কাগজে লিখিত কপি এবং ডিজিটাল কপি পাওয়া গেছে। অথচ সেসব ওখানে থাকার কথা ছিল না।
এছাড়া মার্টিনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ১ হাজার ডলারের বেশি মূল্যমানের সম্পদ চুরির অভিযোগও আনা হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি চুরি করায় এবং অনুমতি ছাড়া শীর্ষ গোপনীয় তথ্য অপসারণের দায়ে মার্টিনের অন্তত এক বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
একটি হলফনামার অংশ হিসেবে এফবিআইয়ের বিশেষ এজেন্ট জেরেমি বুকালো বলেন, মার্টিন অবশ্য প্রাথমিকভাবে শীর্ষ গোপনীয় নথিপত্র চুরির অভিযোগটি অস্বীকার করেছেন। তবে পরে অবশ্য বিষয়টি তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন। এবং এও বলেছেন, সেসব নথিপত্র নিজ ঘরে নিয়ে রাখার কোনো অনুমোদন তার ছিল না।
আগস্টের শুরুর দিকে, এনএসএর হ্যাকিং যন্ত্রপাতিতে এক অভূতপূর্ব লঙ্ঘন দেখা যায়। এর মধ্যে এনএসএর হ্যাকাররা শত্রুদের কম্পিউটারে প্রবেশে ব্যবহার করতেন এমন কিছু ভাইরাস সফটওয়্যারও ছিল। এর কিছুদিন পর “দ্য শ্যাডো ব্রোকারস” নামের একটি গ্রুপ অনলাইনে ওই ফাঁস হওয়া ফাইলগুলো নিলামে তোলে। তবে সন্দেহ করা হচ্ছে এর সঙ্গে এনএসএ-র ভেতরের কেউ হয়তো জড়িত ছিলেন।
অবশ্য ওই ঘটনার সঙ্গে মার্টিনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে যে সময়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাতে ওই ঘটনার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার ধারণা করা একেবারে অযৌক্তিক নয়।
এবারের তথ্য চুরি এবং ফাঁস কাণ্ডের সঙ্গেও যদি ভেতরের কারো যোগসাজশ রয়েছে বলে প্রমাণিত হয় তাহলে এনএসএর জন্য এটি হবে আরেকটি বিব্রতকর ঘটনা। উইকিলিকস এবং অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেনের তথ্য ফাঁস কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই আরেকটি বিপর্যয়ে পড়ল এনএসএ। ঘটনাটি বুজ অ্যালেন হ্যামিল্টনের জন্যও ব্রিবতকর। কারণ স্নোডেন এবং মার্টিন দুজনেরই নিয়োগদাতা ছিলেন তিনি।
বুজ অ্যালেন হ্যামিল্টন অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার
ফের যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার গোপন তথ্য চুরি

Be the first to comment on "ফের যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার গোপন তথ্য চুরি"