রাহাদ, লোহাগড়া (নড়াইল) থেকে : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট বিকেলে উপজেলার ব্রাহ্মণডাঙ্গা দাখিল মাদরাসা চত্বরে পাঁচ গ্রামের হাজারের াধিক মানুষ মিলিত হন।
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুনকে জযলাভ করার প্রত্যয়ে একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি বিবাদপূর্ণ ৫টি গ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় সবাই একযোগে কাজ করবেন বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন।
এ সময় বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছরের দ্বন্দ্ব ভুলে নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের হান্দলা, বাড়ীভাঙ্গা, কাংকুল, ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের বিভিন্ন পেশার হাজারো মানুষ এককাতারে মিলিত হয়েছেন। দীর্ঘদিনের গ্রাম্য সংঘাত, হানাহানি ভুলে সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছেন। আর কোনো মারামারি করবেন না। হত্যাকান্ডের মতো ঘটোনায় জড়াবেন না।
তারা আরো বলেন, দীর্ঘ ইতিহাসে এই গ্রামের দ্বন্দ্বের জেরে অর্ধশতাধিক সহিংসতায় অন্ততপক্ষে পাঁচজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। প্রায় এক হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। ব্যাপক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে। কিন্তু এখন থেকে আর কোনো হানাহানি ও মারামারি কেউ করবেন না।
চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামের আবুল হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে ও সাবেক ইউপি সদস্য খায়রুল ইসলামের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির শেখ।
এছাড়া বক্তব্য দেন নোয়াগ্রাম ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান নুর নবী, সাবেক ইউপি সদস্য কায়কোবাদ লস্কার, সমাজসেবক সাহিদার রহমান মোল্লা, নাজির মোল্লা, মনজুরুল ইসলাম মিলন, শামীম পারভেজ জনি, ব্রাহ্মণডাঙ্গা দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা মিজানুর রহমানসহ অনেকে।
প্রসঙ্গত, নড়াইলের নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের হান্দলা, বাড়ীভাঙ্গা, কাংকুল, ব্রাহ্মণডাঙ্গা ও চর-ব্রাহ্মণডাঙ্গা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার, ইউপি নির্বাচন, জমিজমাসহ বিভিন্ন ঘটনায় প্রায়ই দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি হতো। যা প্রায় ৪০ বছর ধরে চলে আসছিল। বিশেষ করে ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সংঘাত হতো। সবার মাঝে সম্প্রীতি রক্ষায় আসন্ন ইউপি নির্বাচনে পাঁচটি গ্রামের পক্ষ থেকে একক চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করা হয়।

Be the first to comment on "লোহাগড়ায় দীর্ঘ দ্বন্ধের রণেভঙ্গে পাঁচ গ্রামের মানুষ"