স্টাফ রিপোর্টার,রফিকুল ইসলাম পিকুল,লোহাগড়া (নড়াইল): নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভায় স্থানীয়ভাবে কর-খাজনা ও বিভিন্ন প্রকার সনদ প্রদান করে বছরে আয় হয় প্রায় ৫কোটি টাকা। অফিস স্টাফদের বেতন আর ভূরিভোজ ছাড়া উন্নয়ন খাতে ব্যয় নেই বললেই চলে। পৌরসভাটি ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠার ২৩ বছর পার করে ভাগ্যের কোন পরিবর্তন না ঘটলেও পরিবর্তন হয়েছে প্রতিটি মেয়র ও অফিস স্টাফদের। প্রত্যেকের বাড়ি হয়েছে দৃষ্টিনন্দন। তৃতীয় শ্রেণীয় পর্ষাদা নিয়ে দুই যুগ ধরে ভাড়া বাড়িতে দাড়িয়ে আছে দুর্নীতির চারণভূমিখ্যাত এই পৌরসভাটি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৩ জুলাই লিমিট টেন্ডার মেথড (এলটিএম) মাধ্যমে ৪টি প্যাকেজে ৮৪ লাখ ৪২ হাজার ২৭৭ টাকা ৬২ পয়সার ইজিপি টেন্ডার আহব্বান করা হয়। টেন্ডার কমিটিতে দেখা যায় পৌরসভার কার্য-সহকারী মো: কবির হোসেনকে উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) সাধারণ সদস্য ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাবুল হোসেনকে সহকারী প্রকৌশলী (চেয়ারপার্সন) এবং উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কাজী আবু সাঈদ মোহাম্মাদ জসিমকে সদস্য করা হয়েছে। সিডিউল মোতাবেক কাজ বুঝে নেওয়ার কোন প্রকৌশলী না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র নয়-ছয় করে অর্থ লোপাটের উদ্দেশ্যেই জালিয়াতি করে ভূয়া পদ-পদবী ব্যবহার করে এই টেন্ডার দিয়েছে বলে মনে করেন সচেতন পৌরবাসী। টেন্ডারটি গত ২৮ জুলাই ঘোষনা করা হলে সেখানে দেখা যায় খেয়াঘাট হইতে বিদ্যুত কমিশনারের বাড়ি পর্যন্ত ৭৪১ মিটার ইমপ্রুভমেন্ট সড়ক, যার ব্যয় ৪০ লাখ ২১ হাজার ৯৫৭ টাকা, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বুলবুল ট্রেডার্স, প্রোপাইটর: আমিনুল ইসলাম। রাস্তাটি টেন্ডারে অর্ন্তভূক্ত করার পর টিআর প্রকল্পের ১লাখ ৩৮ হাজার টাকা ওই রাস্তায় প্রকল্প দেখিয়ে হিসাব রক্ষক উজ্জল কান্তি সরকার টাকা উত্তোলন করেছেন। রাম-নারায়ন পাবলিক লাইব্রেরী মেরামত, যার ব্যয় ২০ লাখ ৯০ হাজার ৫১ টাকা, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামান ট্রেডার্স, প্রোপাইটর আহাদুজ্জামান বাটু। লোহাগড়া বাজার গরু-ছাগলের হাটে ইটের রাস্তা ও সেড নির্মাণ ব্যয় ১২ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সৈয়দ এন্টার প্রাইজ, প্রোপাইটর: সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। লোহাগড়া বাজার মুরগী, দুধ, চাউল ও ফল বাজার সড়ক সংস্কার এবং লক্ষীপাশা আদর্শ বিদ্যালয় সংলগ্ন ওমর আলীর বাড়ি হইতে রিয়াজ মাস্টারের বাড়ি এবং সুইটির বাড়ি হইতে ফারুকের বাড়ি পর্যন্ত বিএফএস সড়ক, যার ব্যয় ১০ লাখ ৩৯ হাজার ২১১ টাকা, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আয়াত কনস্ট্রাকশন, প্রোপাইটর: নিয়াজ মোরশেদ লিংকন।
পৌরসভায় পদায়নকৃত প্রকৌশলীগণ বিগত আওয়ামী লীগ শাসনামলে নিয়োগ বা, আনুগত্য পোষন করায় ফ্যাসিস্ট ট্যাগ লাগিয়ে দুর্বল করা হয়েছে। অপর দিকে লাইসেন্সধারী যে ঠিকাদার কাজ পান না কেন অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে দেখা যায় ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতা-কর্মীদের। প্রকৌশলীদের দুর্বলতার কারনে সিডিউল মোতাবেক কাজ বুঝে নিতেও পারেননা পৌর কর্তৃপক্ষ। ফলশ্রুতিতে লোহাগড়া বাজারের ঢ়ালাই রাস্তা, ডাক্তার পরিতোষ পালিত’র বাড়ির সামনের ড্রেন ও স্লাব, লোহাগড়া থানার মেইন গেইট হইতে খেয়াঘাট অভিমুখি সড়ক সংস্কারের চুড়ান্ত বিল পরিশোধের আগেই বেহালদশা। ঠিকাদার জাহিদুল ইসলাম ভিটো, থানা সংলগ্ন সড়কটি মেরামত করবেন বলে এই প্রতিনিধিকে নিশ্চিত করলেও অন্য ঠিকাদাররা লাপাত্তা।
পদ-পদবী জালিয়াতি করে টেন্ডার করার বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী বাবুল হোসেন চুপ থাকলেও অফিসের কার্য সহকারী কবির হোসেন বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন না।
এ বিষয়ে লোহাগড়া পৌরসভার প্রশাসক সেবক মন্ডল বলেন, তিনি নতুন যোগদান করেছেন, বিষয়টি জানেন না। অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Be the first to comment on "লোহাগড়া পৌরসভায় ভূয়া প্রকৌশলী সাজিয়ে কোটি টাকার টেন্ডার!"