নিউজ ডেস্ক ॥ নড়াইলের লোহাগড়া পৌর এলাকার পার-ছাতড়া গ্রামে একজন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে। এ ঘটনার পর লোহাগড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পার-ছাতড়া, ছাতড়া, নারানদিয়া ও জয়পুর (পূর্বপাড়া) গ্রামকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।
লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাক্তার শরীফ সাহাবুর রহমান জানান, পার-ছাতড়া গ্রামের সৈয়দ আশরাফ আলীর ছেলে সৈয়দ সুজন (২৫) ঢাকার নারায়নগঞ্জ এলাকায় একটি ওষুধ ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ছিলেন। ঢাকায় থাকাকালীন সময়ে তিনি জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হয়। তখন রুমমেটরা তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। ওই ক্লিনিকে করোনা রোগের টেষ্ট টিউব না থাকায় টেকনিশিয়ান তাকে করোনা পরিক্ষার পরামর্শ দেন। সুজন করোনা পরীক্ষা না করে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকা থেকে নিজ বাড়ি পার-ছাতড়ায় চলে আসেন। বুধবার (৮এপ্রিল) সকাল ১০ পৌর শহরের জয়পুর গ্রামের মৃত জিল্লু মোল্যার ছেলে ফায়েকের ভ্যানে করে চিকিৎসার জন্য তিনি লোহাগড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে নমুনা সংগ্রহ করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেন। পরে সুজন স্থানীয় কান্তি ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারে স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। এ দিকে, তার আগমণের বিষয়টি এলাকাবাসী প্রশাসনকে অবহিত করলে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ তাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে নির্দেশ দেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকালে তার নমুনা পজেটিভ বলে নড়াইল সিভিল সার্জনকে জানান। সিভিল সার্জন বিষয়টি লোহাগড়া উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা অফিসারকে অবহিত করেন। বর্তমানে তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের তত্বাবধানে নিজ বাড়ি পার-ছাতড়ায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।
এদিকে, লোহাগড়ায় প্রথম করোনী রোগী সনাক্ত হওয়ার পর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে পার-ছাতড়া, ছাতড়া, নারানদিয়া ও জয়পুর (পূর্বপাড়া) লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকুল কুমার মৈত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

Be the first to comment on "লোহাগড়ায় প্রথম করোনা রোগী সনাক্ত, ৪ গ্রাম লকডাউন"