শিরোনাম

শতকরা ৯০ ভাগ ব্যবসাই এসএমই খাতের : আমু

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ শিল্প ও ব্যবসাই এসএমই খাতের আওতাভুক্ত বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, ‘এ খাত দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ৭০ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করে। শিল্প কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এর বিরাট অবদান রয়েছে। মোট শিল্প কর্মসংস্থানের শতকরা প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ সৃষ্টি হচ্ছে এ খাত থেকে। এসএমই খাত মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের শতকরা ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ যোগান দিয়ে থাকে। অর্থনীতির এ সব কর্ম সূচক বিবেচনা করলে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে এসএমই খাতের অবদান সহজে অনুমান করা যায়।’
জাতীয় এসএমই মেলা-২০১৬ এবং জাতীয় এসএমই উদ্যোক্তা পুরস্কার ২০১৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন শিল্পমন্ত্রী।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে রবিবার সকাল ১১টায় এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। মেলা চলবে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, এসএমই ফাউন্ডেশনের সভাপতি কে এম হাবিব উল্লাহ, এফবিসিআই’র সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সফিকুল ইসলাম।
এবারের এসএমই উদ্যোক্তা পুস্ককারপ্রাপ্তরা হলেন—বর্ষসেরা মাইক্রো উদ্যোক্তা হিসেবে স্মার্ট লেদার প্রোডাক্টের মালিক মাসুদা ইয়াসমিন উর্মি ও সাজু ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানির মালিক লুৎফর রহমান। ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা তাজনুন ফুড প্রোডাক্টের মালিক সুলতানা নূরজাহান ও কেপিসি ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক কাজী সাজিদুর রহমান। বর্ষসেরা মাঝারি উদ্যোক্তা পুরস্কার পেয়েছেন এটিএম শামসুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ‘শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ফাউন্ডেশন শুরু থেকেই দেশে টেকসই ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এসএমই খাত বিকাশের দায়িত্ব পালন করে আসছে। এ খাতের উদ্যোক্তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান, তথ্য ও গবেষণা সেবা, ঋণ প্রাপ্তি, পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন ও বিপণন সহায়তা করে এটি ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দক্ষ এসএমই নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে এ প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রশংসনীয় অবদান রেখেছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় এলাকাভিত্তিক কাঁচামালের সহজলভ্যতা বিবেচনা করে শিল্প স্থাপনের নিদের্শনা দিয়ে আসছেন। শিল্প মন্ত্রণালয় প্রণীত জাতীয় শিল্পনীতি ২০১ তে এ ধরনের দিক নির্দেশনা থাকছে। এ লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে দেশব্যাপী কার্যকর সমীক্ষা ও গবেষণা চালাতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এমএ মান্নান বলেন, ‘ব্যবসা বাণিজ্যের রক্তই হচ্ছে পুঁজি। তাই পুঁজি সরবরাহ না করে শুধু প্রশিক্ষণ বা অন্য কিছুর মাধ্যমে সুফল মিলবে না। এ সরকার পরিবর্তনের সরকার, নতুন ধরনের সরকার। সরকার সব কিছু উলট-পালট করে নতুন করে গড়ে তুলতে কাজ করছে।’
আবদুল মাতলুব বলেন, ‘এসএমই ফাউন্ডেশনকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে। এ ছাড়া এসএমই উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এ বছরে সারাদেশ থেকে ১৮৩টি এসএমই প্রতিষ্ঠান ১৯৩টি স্টলে তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে এ সব মেলায় অংশ গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া মেলায় ক্রেতা-বিক্রেতা মিটিং বুথ, রক্তদান কর্মসূচি, মিডিয়া সেন্টার, তথ্য কেন্দ্রের স্টল রয়েছে। মেলায় দেশে উৎপাদিত পাটজাত পণ্য, খাদ্য ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, চামড়াজাত সামগ্রী, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেট্রনিক্স সামগ্রী, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, আইটি পণ্য, প্লাস্টিক ও অন্যান্য সিনথেটিক, হস্তশিল্প, ডিজাইন ও ফ্যাশনওয়ারসহ অন্যান্য মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের স্বদেশি পণ্য প্রদর্শিত ও বিক্রয় হবে। কোনো বিদেশি পণ্য মেলায় প্রদর্শন ও বিক্রয় করা হবে না। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। মেলায় কোনো প্রবেশ মূল্য নেই।

basic-bank

Be the first to comment on "শতকরা ৯০ ভাগ ব্যবসাই এসএমই খাতের : আমু"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*