শিরোনাম

শ্রীনগরে দুই কিশোরীকে রাতভর গনধর্ষণ: ৬ দিন পরও মামলা হয়নি

নিউজ ডেস্ক : শ্রীনগরে বৈশাখী মেলা থেকে বাড়িতে ফেরার পথে স্কুল ছাত্রীসহ দুই কিশোরীকে রাতভর আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে করেছে তিন বখাটে। পরদিন সকালে দরিদ্র পরিবারের ওই দুই কিশোরী কোন মতে বাড়িতে ফিরলেও স্থানীয় মাতবররা উল্টো তাদেরকে সামাজিক ভাবে চাপে রেখে মামলা করতে বাধা দিচ্ছে । অপরদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, রাতভর গন ধর্ষনের ঘটনাটি শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাহিদুর রহমানকে জানানো পর ৬ দিন পার হলেও তিনি কোন ব্যবস্থা নেননি। ওসি সাহিদুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি তিনি জানেননা। তবে ধর্ষিতাদের পরিবারের কেউ থানায় অভিযোগ দিলে মামলা নেওয়া হবে। উপজেলার বালাসুর নতুন গ্রাম এলাকায় গত ১ লা বৈশাখের রাতে এঘটনা ঘটে।

সরজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে জানা যায়, ওই এলাকার এক কিশোরী (১৫) তার প্রতিবেশী বানিয়াবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীর আরেক ছাত্রীকে (১৩) নিয়ে ১ বৈশাখ বিকালে প্রায় তিন কিলোমিটার দুরে স্যার জে,সি,বোস ইনষ্টিটিউশনে বৈশাখী মেলায় যায়। সেখানে সন্ধ্যা হয়ে গেলে ওই দুই কিশোরীর প্রতিবেশী আবুল মুন্সীর ছেলে আকাশ (২২), তারামিয়ার ছেলে রুমান (২১) ও আজিবর শেখের ছেলে আঃ রহমান (২৩) তাদেরকে একই সাথে বাড়িতে ফেরার প্রস্তাব দেয়। বখাটেদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে দুই কিশোরী রাত আটটার দিকে একটি ইজি বাইকে করে বালাসুর নতুন গ্রামের দিকে রওনা দেয়। ইজি বাইকে উঠিয়েই বখাটেরা দুই কিশোরীকে ঘুমের ঔষধ মিশ্রিত কোমল পানীয় পান করায়। ইজি বাইকটি রাত সাড়ে আটটার দিকে বানিয়া বাড়ী নামক স্থানে আসলে বখাটেরা অর্ধচেতন অবস্থায় দুই কেশোরীকে হানিফ মাদবরের বাগানবাড়ীতে নিয়ে যায়। রাত এগারটার দিকে কিশোরীদের চেতনা ফিরে আসলে তারা নিজেদেরকে বিবস্ত্র অবস্থায় দেখতে পান। তাদের সাথে বখাটেরা শারীরীক সম্পর্ক স্থাপন করেছে বুঝতে পেরে তারা কান্নাকাটি শুরু করে এবং বাড়ীতে ফেরার চেষ্টা করে। এসময় বখাটেরা তাদের মুখ চেপে ধরে গলা টিপে হত্যার হুমকি দিয়ে রাতভর আটকে রেখে ধর্ষণ করে। শেষ রাতের দিকে বখাটেরা দুই কিশোরীকে বাগান বাড়ীতে রেখে সটকে পড়ে। রাতভর খোজাখুজি করে দুই কিশোরীরর পরিবারের লোকজন তাদেরকে সকালে বাগান বাড়ী থেকে উদ্ধার করে । ওই দিনই এলাকার মাতব্বর জিল্লা ফকির, জাকির ও আকাশের বাবা আবুল মুন্সী ধর্ষিতাদের বাড়িতে এসে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে এবং মামলা না করতে হুমকি দেয়। কিন্তু ওই এলাকার নিজাম খোরা ঘটনাটি শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাহিদুর রহমানকে মোবাইল ফোনে জানালেও তিনি রহস্যজনক কারণে গত ৬ দিনে কোন ব্যবস্থা নেননি । পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, ধর্ষণের আলামত রেখে দিয়েছি কিন্তু আমরা গরীব বলে আমাদের পাশে এসে কেউ দাড়াচ্ছেনা। এলাকার মাদবরদের ভয়ে থানায়ও যেতে পারছিনা। অপর কিশোরীর ভাই কান্না জড়িত কন্ঠে এঘটনার উপযুক্ত বিচার দাবী করেন।

basic-bank

Be the first to comment on "শ্রীনগরে দুই কিশোরীকে রাতভর গনধর্ষণ: ৬ দিন পরও মামলা হয়নি"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*