নিউজ ডেস্ক : সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দাবি জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। জাতীয় সংসদ ভবনে সোমবার গাইবান্ধা ১ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের জানাজা শেষে একই জেলার আরেক আসনের এই সাংসদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
ফজলে রাব্বী বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে সব সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা জানিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী নিশ্চয় আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করে এমপিদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবেন। খ্রিষ্টীয় বছরের শেষদিন সন্ধ্যারাতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের সাংসদ লিটনকে তার বাড়ির বৈঠকখানায় ঢুকে গুলি করে পালিয়ে যায় আততায়ীরা। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু ঘটে।
এর আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে বিরোধী দলে থাকার সময় গুলি করে ও গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যকে হত্যা করা হয়। ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে শ্রমিক নেতা ও গাজীপুরের সাংসদ আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যা করা হয়। পরের বছরই ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদরের বৈদ্যের বাজারে ঈদপরবর্তী এক জনসভা শেষে বের হওয়ার পথে গ্রেনেড হামলায় নিহত হন আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে।
দুটি হত্যাকাণ্ডের মামলায় প্রধানত বিএনপি নেতাদের আসামি করা হয়। এর মধ্যে আহসান উল্লাহ মাস্টারকে হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত পেরিয়ে হাই কোর্টের রায়ে বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম সরকারসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে। সোমবার সংসদ ভবনের জানাজার আগে গাইবান্ধা ৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, অপরিণত বয়সে লিটনের মৃত্যু হয়েছে। এটা জামায়াত-শিবিরের চক্রান্ত। গোলাম আজমকে সুন্দরগঞ্জের মাটিতে নামতে দেয়নি লিটন। এই দোষের শিকার হল লিটন।
সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তায় গানম্যানের ব্যবস্থা করা হবে কি না এই প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ সাংবাদিকদের বলেন, জনপ্রতিনিধিদের তাদের নির্বাচনী এলাকায় যেতে হয়। বিভিন্নভাবে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হয়। এ জন্য জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

Be the first to comment on "সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা চাইলেন ডেপুটি স্পিকার"