শিরোনাম

২২ বছর পর হিলসবরো ট্র্যাজেডির ৯৭তম ‘শিকার’

নিউজ ডেস্ক: ওয়ারিংটনের চেশায়ারে পরশু আদালতের বাইরের দৃশ্যটা মনে ঝড় তোলার মতোই ছিল। হাজার হাজার লিভারপুল সমর্থক একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন, একসঙ্গে গেয়ে উঠছেন ‘ইউ উইল নেভার ওয়াক অ্যালোন’…শব্দগুলোর অর্থ হয়তো এর চেয়ে বেশি করে কখনো অনুভূত হয়নি। ২৭ বছর অপেক্ষার পর অবশেষে ন্যায়বিচার পেলেন হিলসবরো দুর্ঘটনায় নিহত ৯৬ জনের স্বজনেরা। একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে হয়তো সেদিন স্বজন হারানোর দুঃখ, বিচার পাওয়ার সান্ত্বনা ভাগাভাগি করে নিচ্ছিলেন।

কিন্তু এই ‘বিজয়’ও হয়তো সান্ত্বনা হয়ে আসতে পারেনি একই সময়ে ওয়ারিংটন থেকে ১২ মাইল দূরে আথারটনের বাসায় বসে অঝোরে কাঁদতে থাকা ফ্র্যাঙ্ক ও হিলডা হোয়াইটলের জন্য। হিলসবরো দুর্ঘটনা তাঁদের কোনো স্বজনের মৃত্যু হয়নি, কিন্তু এটির জেরেই যে চিরতরে হারিয়ে গেছে সন্তান স্টিভেন হোয়াইটল। হিলসবরোতে ট্রাজেডির মধ্যেও অন্য এক ট্র্যাজেডির গল্প হয়ে আছে স্টিভেনের মৃত্যু। হিলসবরো ট্র্যাজেডির যিনি ‘৯৭তম’ শিকার।

১৯৮৯ সালের ১৫ এপ্রিল এফএ কাপের সেমিফাইনাল দেখতে যাওয়া ৯৬ জন লিভারপুল সমর্থক সেদিন শেফিল্ড ইউনাইটেডের হিলসবরো স্টেডিয়াম থেকে ফিরে আসেননি, কখনো ফিরবেনও না। সেদিন এই ৯৬ জনের একজন হতে পারতেন স্টিভেন হোয়াইটলও। ভাগ্যের ফেরে সেদিন বেঁচে গিয়েছিলেন, কিন্তু ওই ‘ভাগ্য’ই তাঁর জীবনকে করে তুলেছিল দুঃসহ।
আজীবন লিভারপুলের সমর্থক স্টিভেনের কাছে সেদিনের নটিংহাম ফরেস্টের সঙ্গে ম্যাচটার টিকিট ছিল। কিন্তু অফিসের কাজ পড়ে যাওয়ায় তাঁর যাওয়া সম্ভব ছিল না। যেতে পারছেন না দেখে টিকিটটা এক বন্ধুকে দিয়ে দিয়েছিলেন স্টিভেন। তাঁর পরবর্তী জীবনের গল্পও হয়তো ওই এক টিকিটেই লেখা হয়ে গিয়েছিল। যে বন্ধুকে টিকিট দিয়েছিলেন, তাঁর নামও ঢুকে গেছে না-ফেরার দেশে চলে যাওয়া ৯৬ জনের তালিকায়।

ভাগ্য? নাহ্‌! ওই ঘটনাটা কখনোই মেনে নিতে পারেননি স্টিভেন। ‘সারভাইভারস গিল্ট’ বলে যে একটা ব্যাপার থাকে, সেটিই তাঁকে তাড়া করে বেড়িয়েছে বাকিটা জীবন। চেষ্টা করেছিলেন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার, পারেননি। ২২টি বছর ধরে বন্ধুর মৃত্যুর জন্য নিজেকে দায়ী করে গেছেন। মানসিক ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠতে লড়াই করে গেছেন। জিততে পারেননি। মনোবিদের সাহায্য নিতে বেধেছে। বিষণ্নতা কাটাতে ওষুধ খেয়েছে, কিন্তু মনের ক্ষত সারেনি। সারাজীবনে জমানো অর্থ থেকে ৬১ হাজার পাউন্ড দান করেন হিলসবরো মেমোরিয়াল ট্রাস্টে, অপরাধবোধটা যদি কমে!

শেষ পর্যন্ত ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সব সমস্যার সমাধানে একটা পথ বেছে নেন, করুণতম পথ। চলন্ত ট্রেনের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে ‘সারভাইভারস গিল্ট’ থেকে মুক্তির স্বাদ নেন স্টিভেন।

যতবার হিলসবরো ট্র্যাজেডির কথা আসবে, লিভারপুল সমর্থকদের চিরায়ত শোকে হয়তো তাঁর জন্য কোনো শোকগাথা লেখা থাকবে না। কাগজে-কলমেও ফুটবলের অন্যতম করুণ এই দুর্ঘটনার শিকার সব সময় লেখা থাকবে ৯৬ জন। স্টিভেন হোয়াইটল সেখানে একা, অনেকটা হিলসবরো দুর্ঘটনায় তাঁর লড়াইয়ের মতো। যার প্রতিফলন রয়েছে তাঁর জীবনের শেষ কয়েকটি মুহূর্তে… রেললাইন ধরে একা হেঁটে যাচ্ছেন স্টিভেন। ক্লাবের থিম সংয়ের উল্টো পথেই কেটেছে এই লিভারপুল সমর্থকের জীবন, ‘স্টিভেন ওয়াকড অ্যালোন’!

basic-bank

Be the first to comment on "২২ বছর পর হিলসবরো ট্র্যাজেডির ৯৭তম ‘শিকার’"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*