নিউজ ডেস্ক : আগামীকাল ঈদের দিন দেশজুড়ে মুক্তি পাচ্ছে পরীমনি অভিনীত ‘রক্ত’ ছবিটি। ছবিটির শুটিংয়ের শেষভাগে এসে ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়েছিলেন তিনি। আবার এই ‘রক্ত’ ছবির কারণেই তাঁর অন্য চলতি বেশ কয়েকটি ছবির শুটিং বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগও আছে তাঁর বিরুদ্ধে। তারপরও ঈদ উৎসবে প্রথম পরীমনির মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি হবে ‘রক্ত’। সব বিষয় নিয়েই খোলামেলা কথা বলেছেন এই নায়িকা।
‘রক্ত’ ছবিটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কেমন?
অনেক বেশি প্রত্যাশা। কারণ, আমার চলতি অনেকগুলো কাজ ফেলে রেখে এই ছবিতে সময় দিয়েছি। এত শ্রম আমার অন্য কোনো ছবিতেই দিইনি। ছবিটিতে শতকারা প্রায় ৪০ ভাগই মারামারির দৃশ্য আছে। প্রচণ্ড রোদে জাহাজের ওপর শুটিং করতে করতে লোহার তাপে এমনও হয়েছে যে জুতার তলা গলে গেছে। আবার ভিলেনদের টর্চার সেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পানিতে থাকতে হয়েছে। শুটিংয়ের সময় কতবার যে আমাকে পানিয়ে ডুবিয়েছে, তার হিসাব নেই। এত কষ্ট করলাম। নিশ্চয়ই ছবিটি থেকে ভালো কিছু পাব।
অভিযোগ আছে, রক্ত ছবিতে শিডিউল দেওয়ার কারণে বেশ কয়েকটি চলতি ছবির নির্ধারিত শিডিউল বাতিল করেছেন। যার কারণে ওই সব ছবির পরিচালক সঠিক সময়ে তাঁদের ছবির নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেননি। এতে করে তাঁদের ছবির বাজেটও বেড়ে গেছে। আপনি কী বলেন?
‘রক্ত’ ছবিতে কাজ শুরু করার আগে বেশ কয়েকটি ছবির কাজ চলছিল। তার মধ্যে আছে ‘অন্তর্জ্বালা’, ‘নদীর বুকে চাঁদ’, ‘আপন মানুষ’, ‘স্বপ্নজাল’, ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’ ও ‘ইনোসেন্ট লাভ’। বেশ কয়েকটি কাজ প্রায় শেষ। কিছু ছবির গান, কিছু ছবির ডাবিং বাকি ছিল। ইতিমধ্যে কাজগুলো শুরুও করেছি। তবে সবাইকে ফাঁসিয়ে ‘রক্ত’ ছবিতে কাজ করেছি, এটা ঠিক না। ‘রক্ত’-এর মতো একটা বড় বাজেটের ছবিতে কাজের সুযোগ পাওয়ায় অন্য ছবির পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে আপসে শিডিউল বের করেছি।
আবার ‘রক্ত’ ছবিতে কাজ করতে গিয়েও তো সমালোচনার মুখে পড়েছেন। প্রযোজক বলছেন, শুটিং ফাঁসিয়ে দেওয়া কিংবা বারবার শুটিংয়ে দেরি করে আসার কারণে অতিরিক্ত আরও এক মাস বেশি সময় লেগেছে শুটিং শেষ করতে। এতে করে প্রায় এক কোটি টাকা বাড়তি খরচ গুনতে হয়েছে। আপনার বক্তব্য কী?
প্রযোজক বললেই কি এসব কথা বিশ্বাস করতে হবে? এসব সত্য নয়। প্রযোজক যখন সংবাদ সম্মেলন করে ‘রক্ত’ ছবি নির্মাণের ঘোষণা দেন, তখন তিনি বলেছিলেন তাঁর ‘ডুব’ ছবিটির জন্য বাজেট ১২ কোটি আর ‘রক্ত’-এর জন্য ছয় কোটি। এখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন তো, ‘রক্ত’ ছবি শেষ করতে তাঁর খরচ ছয় কোটি টাকা অতিক্রম করেছে কি না।
অনেকই বলছেন, পরীমনি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে না যত আলোচিত, তার চেয়ে বেশি আলোচিত-সমালোচিত তাঁর খামখেয়ালিপনার জন্য। আপনার কী বলার আছে?
আমি যদি খামখেয়ালি করে সমালোচিতই হই, তাহলে তো আমি ভালো মানুষ না। এই খারাপ মানুষকে নিয়ে এত টানাটানি কেন? দরকার তো নেই, তাই না? দেখুন, আমি যখন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিচ্ছি, সেটি মানুষ অনুসরণ করছেন। সেটি নিয়ে পত্রিকার পাতায় খবর তৈরি হচ্ছে। আমি যদি সমালোচিত নায়িকাই হয়ে থাকি, তাহলে আমাকে অনুসরণের দরকার কী। যাঁরা এসব বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তাঁরা আসলে আমাকে হিংসা করছেন, তাঁরা চান না যে আমি চলচ্চিত্রে কাজ করি। যদি তা-ই হয়, তাহলে চলচ্চিত্র ছেড়ে দেব।
এ পর্যন্ত আপনার আটটি ছবি মুক্তি পেয়েছে। ঢালিউডের সবাই বলছেন, একটি ছবিও দর্শক আলোচনায় আসেনি। আপনার কী মনে হয়?
শুধুই কি ছবির নায়িকার ওপর নির্ভর করেই ছবি দর্শক আলোচনায় আসে? আমি মনে করি, একটি ছবির ভালো-মন্দ ওই ছবির পুরো টিমের ওপর নির্ভর করে। আর আমার ছবি যদি দর্শক আলোচনায় না-ই আসে, তাহলে প্রযোজকেরা আমার পেছনে এত টাকা লগ্নি করছেন কেন? এই প্রশ্নটা আমি সবার কাছে রাখলাম।
এবার ঈদের সময়টা কোথায় কাটাবেন?
যেহেতু ঈদে প্রথম আমার অভিনীত কোনো ছবি মুক্তি পাচ্ছে, তাই ঈদের দুদিন ঢাকাতেই থাকব। ঢাকার মধ্যে যেসব প্রেক্ষাগৃহে ‘রক্ত’ ছবিটি চলবে, সেখানে পুরো টিমের সঙ্গে থাকব। সিনেপ্লেক্স অথবা ব্লকবাস্টারে গিয়ে ছবিটি দেখার ইচ্ছা আছে। দুদিন পর গ্রামের বাড়িতে যাব। এক দিন পরেই আবার ঢাকায় ফিরে আসব।

Be the first to comment on "‘ছবির দর্শক শুধু নায়িকার ওপর নির্ভর করে না’"