নিউজ ডেস্ক : টঙ্গীর ট্যাম্পাকো ফয়েলস কারখানার ধ্বংস্তুপ উদ্ধার কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় ট্যাম্পাকো ফয়েলস কারখানার পাশে স্থাপিত সেনাবাহিনীর কন্ট্রোল রুমে এক প্রেসব্রিফিংয়ে গাজীপুর জেলা প্রশাসক এসএম আলম এ সমাপ্তির কথা ঘোষণা করেন। উদ্ধার কাজে অংশ নেয়া সকল বাহিনী ও সংস্থার কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবীদের ধন্যবাদ জানান।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস.এম আলম বলেন, ট্যাম্পাকো ফয়েলস কারখানার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ধ্বংস্তুপ থেকে উদ্ধার অভিযানে ৩৯টি লাশ, কিছু হাড় ও শরীরের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ৩৬ জনকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অনেক শ্রমিক চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ৮টি লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। তাদের ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সনাক্তের পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরো বলেন, ৯ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছে তার মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা ৮টি লাশ তাদের। ধ্বংস্তুপ থেকে যে হাড় ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে আমরা ধারণা করছি উদ্ধার করা দেহাবশেষগুলো ওই নিখোঁজ ব্যক্তির হতে পারে। সেনাবাহিনী ডগ স্কোয়াড দিয়েও খুঁজে দেখা হয়েছে। সেখানে আর কোনো লাশের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তাই লাশ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় উদ্ধার কাজ সমাপ্ত ঘোষণা করা হলো। কারখানার কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে উদ্ধার কাজ সমাপ্ত করা হয়। এখন থেকে কারখানা কর্তৃপক্ষ তারা নিজেরাই উদ্ধার কাজ পরিচালনা করবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- সেনাবাহিনীর-১৪ স্বতন্ত্র ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেডের লে. কর্নেল মোহাম্মদ শফিউল আজম, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আক্তারুজ্জামান, শিল্প পুলিশের এএসপি মিজানুর রহমান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, টঙ্গীর বিসিক শিল্পনগরীতে বিএনপির সাবেক সাংসদ মকবুল হোসেনের মালিকানাধীন ট্যাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেড কারখানায় গত ১০ সেপ্টেম্বর ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কারখানার মালিককে প্রধান আসামি করে টঙ্গী মডেল থানায় দুটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
গত ১২ সেপ্টেম্বর কারখানা মালিকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি করেন নিহত শ্রমিক জুয়েলের বাবা আব্দুল কাদের। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে টঙ্গী মডেল থানার এসআই অজয় চক্রবর্তী বাদী হয়ে কারখানা মালিকসহ ১০ জনকে আসামি করে দ্বিতীয় মামলাটি করেন। দুটি মামলা হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২০হাজার স্কায়ার ফিটের ৫তলা ভবন ও এর কাঁচামাল ও মেশিনসামগ্রী পুরোপুরি ধ্বংস্তুপে পরিণত হয়।

Be the first to comment on "টঙ্গীর টাম্পাকোর উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা"