শিরোনাম

নড়াইলে শালিস বৈঠক ॥ নারীর ইজ্জতের মূল্য ত্রিশ হাজার টাকা

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল সদর উপজেলার গোপীকান্তপুর গ্রামে ধর্ষণের বিচার ৩,৪টি চড়থাপ্পড় ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা। স্থানীয় চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে শালিসী বৈঠকের মাধ্যমে বিচারের নামে এই প্রহসনের ঘটনাটি ঘটেছে নড়াইল সদর উপজেলার শাহাবাদ ইউনিয়নের গোপীকান্তপুর গ্রামে। জানা গেছে, গোপীকান্তপুর গ্রামের জনৈক ব্যক্তির ৭বছর বয়সী শিশু কন্যাকে একই গ্রামের শুম্ভ বিশ্বাসের ছেলে সুশেন বিশ্বাস (৩৫) গত ২০ জানুয়ারী প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর সোমবার ২৩ জানুয়ারী সন্ধ্যায় গোপীকান্তপুর সার্বজনীন মন্দির প্রাঙ্গনে সামাজিকভাবে মিমাংসার জন্য শালীস বসে। শাহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ দেলোয়ার হোসেন পান্নার নেতৃত্বে শালীসে স্থানীয় ১নং ওয়ার্ডের সদস্য জীবন বিশ্বাসসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। শালিসী বৈঠকে ধর্ষককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৩০টি বেত্রাঘাতের সিদ্ধান্ত হয়। প্রহসনমূলক এই শালিসের রায় কার্যকরের দায়িত্ব দেওয়া হয় ধষর্কের বংশীয় চাচা গ্রাম্য পুলিশ বিপ্রদ বিশ্বাসের ওপর। তিনি ৩/৪টি চড় থাপ্পড় দিয়ে ধর্ষক সুশেন বিশ্বাসকে সরিয়ে দেয়। শালিসের নেতৃত্বদানকারী ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন পান্না জানান, এলাকায় শান্তি শৃংখলা বজায় রাখতে স্থানীয়ভাবে শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে। তিনি জানান, জরিমানার ৩০ হাজার টাকা স্থানীয় মন্দিরের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। নড়াইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খান জানান, ধর্ষণের মতো ঘটনায় ঘটলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মিমাংসার কোন সুযোগ নেই। তবে বাদী যদি কোন অভিযোগ না করে সেক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা কিংবা বিচারের কোন সুযোগ থাকে না।

basic-bank

Be the first to comment on "নড়াইলে শালিস বৈঠক ॥ নারীর ইজ্জতের মূল্য ত্রিশ হাজার টাকা"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*