শিরোনাম

বিনামূল্যে গণপরিবহনের ব্যবস্থা যে শহর

নিউজ ডেস্ক : ঢাকা শহরের বাসিন্দাদের গণপরিবহন যেমন ব্যয়বহুল তেমন বিশৃঙ্খলায় পরিপূর্ণ। আবার লন্ডনের গণপরিবহনে শৃঙ্খলা থাকলেও তা যথেষ্ট ব্যয়বহুল। এ উভয় সমস্যা সমাধানের একটি আদর্শ উপায় হতে পারে এস্তোনিয়ার রাজধানী টালিনের উদাহরণ। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে গার্ডিয়ান।
নগরের বাসিন্দাদের একটু স্বস্তি দেওয়া যায় টালিনের উদাহরণ অনুসরণ করে। বেশ কয়েকটি কারণে এ শহরের গণপরিবহন অন্যদের নিকট অনুকরণীয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যের গণপরিবহন ব্যবস্থা।
নগরীতে যাতায়াত করতে গেলে নাগরিকদের কোথাও ভাড়া দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। নগরীতে ট্রাম বাস কিংবা রেল আপনি যেই গণপরিবহনই ব্যবহার করেন না কেন, নাগরিকদের জন্য তা সম্পূর্ণ বিনামূল্যের।
গণপরিবহনের যুগান্তকারী এ ধারণাটির উদ্ভাবক মেয়র এডগার সাভসার। ২০১৩ সালে তিনি এ কাজটি শুরু করেন। তবে সমালোচকরা বলছিলেন, এর পেছনে যে খরচ হবে তা বহন করার ক্ষমতা নেই কর্তৃপক্ষের। কিন্তু প্রায় তিন বছর হয়ে গেলেও এ ব্যবস্থাটি চালু রয়েছে। সাফল্যের সঙ্গে নাগরিকদের বিনামূল্যে গণপরিবহনে যাতায়াতের ব্যবস্থা করতেও সক্ষম হয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
ইতোমধ্যেই দুর্নীতির অভিযোগে মেয়র সাভসার বরখাস্ত হয়েছেন। তবে তার এ উদ্যোগ এখনও চালু রেখেছে নগরটি। শুধু তাই নয় এ ব্যবস্থা থেকে প্রতি বছর ২০ মিলিয়ন ডলার আয় করছে শহরটির কর্তৃপক্ষ।
তালিনের এ পরিবহন ব্যবস্থাতে রয়েছে বাস, ট্রাম, ট্রলি বাস ও ট্রেন। আর এ গণপরিবহনগুলোতে যাতায়াতের সুবিধা নেওয়ার জন্য নাগরিকদের রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। এছাড়া তাদের বার্ষিক আয় থেকে এক হাজার ইউরো দিতে হয়। আর এ ব্যয় থেকেই পরিচালনা করা হয় নগরির গণপরিবহন। বার্ষিক এ খরচের বিনিময়ে প্রতিদিন তাদের আর ভাড়া নিয়ে ভাবতে হয় না। গড় হিসেবে এ খরচটি দৈনন্দিন আলাদা আলাদা খরচের তুলনায় কম। আর এ কারণেই ব্যবস্থাটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
প্রথম যখন গণপরিবহনের এ ব্যবস্থাটি প্রচলন করা হয় তখন প্রায় ২৫ হাজার মানুষ তাতে রেজিস্ট্রেশন করেন। আর এখন এতে প্রায় সোয়া চার লাখ মানুষ রেজিস্ট্রেশন করে সুবিধা ভোগ করছেন।

basic-bank

Be the first to comment on "বিনামূল্যে গণপরিবহনের ব্যবস্থা যে শহর"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*