নিউজ ডেস্ক : মুন্সীগঞ্জে গ্রেফতারকৃত চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। নিরাপত্তাসহ নানা কারণে এই প্রার্থীকে পুরান ঢাকার এই কারাগারে পাঠানো হয় সোমবার। কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে নির্বাচন প্রচারনা শুরু করা হয়েছে মঙ্গলবার। তার অনুসারীরা নির্বাচন পরিচালায় বৈঠক করে কমিটি গঠন করেছে। তবে বুধবার রিমান্ড শুনানীর জন্য তাকে মুন্সীগঞ্জের আদালতে নিয়ে আসা হতে পারে বলে জানিয়েছেন, মুন্সীগঞ্জ জেল খানার সুপার মুস্তাফিজুর রহমান। এদিকে গোলাম মোস্তফার সাথে গ্রেফতারকৃত বাকী ২৩ জনের জামিন সোমবার মঞ্জুর করেছে আদালত। তবে একই ঘটনার অপর মামলায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গ্রেফতার প্রতিপক্ষ গ্রুপের যুব লীগ কর্মী বাদল রহমানের জামিন নামঞ্জুর করে সিডি তলবসহ ২১ এপ্রিল রিমান্ড শুনানীর দিন ধার্য করা হয়। পুলিশ বাদল রহমানের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিম উদ্দিনের আদালত এই আদেশ দিয়েছেন। এসব ঘটনায় এখন শহর ও শহরতলীর পঞ্চসার ইউপিতে চলছে চাপা উত্তেজনা। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ সর্তক অবস্থান নিয়েছে।
পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, ১২ এপ্রিল মুক্তারপুরে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় ৩টি মামলা হয়। এর মধ্যে শনিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে দু’পক্ষ থেকে দায়ের করা দু’টি মামলা রুজু হয়। পরদিন ১৭ এপ্রিল গ্রেফতার অভিযান চলে। ঘটনার দিন ১২ এপ্রিল প্রথম মামলাটি হয় অস্ত্র আইনে। অজ্ঞাতনামা আসামী করে এটির বাদী হয়েছে সদর থানার এসআই ফয়সাল। আহত মৃদুল দেওয়ানের ভাই আবু বক্কর সিদ্দিক মিথুন বাদী হয়ে বেআইনীভাবে পথরোধ করে মিলে নিয়ে আটক করে মারপিটের অভিযোগে গোলাম মোস্তফাসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামী করে মামলা করেন। অপরদিকে বিদ্রোহী চেয়ার্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফার ফ্যাক্টরীর ম্যানেজার আমির হোসেন বাদী মিলে অস্ত্র নিয়ে হামলা মারপিট ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে মৃদুল দেওয়ানসহ ৯ আসামী করে মামলা করেন।
পাল্টাপাল্টি দু’ মামলা পুলিশ রবিবার চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফা এবং তার ফ্যাক্টরীর কর্মচারীসহ ২৪ জনকে গ্রেফতার করে। একই সাথে অপর গ্রুপের ঢাকায় চিকিৎসারত স্থানীয় সাংসদ মৃনাল কান্তি দাসের ভাতিজা জেলা তরুন লীগের সাধারণ সম্পাদক আদর দাস(২৫), তরুন লীগের সভাপতি মৃদুল দেওয়ান জালাল (৩৫), জেলা ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহম্মেদ পাভেল (২৪) ও যুবলীগ কর্মী বাদল রহমানকে (৩৫) গ্রেফতার করে। বাদল রহমানকে ডিএমসি থেকে চিকিৎসার ছাড়পত্র নিয়ে গ্রেফতার করে মুন্সীগঞ্জে নিয়ে আসে। তবে বাকী তিনজন গ্রেফতারকৃত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

Be the first to comment on "মুন্সীগঞ্জের চেয়ারম্যান প্রার্থী কেন্দ্রীয় কারাগারে"