শিরোনাম

মুম্বাইয়ের কারাগারে দাউদ মার্চেন্ট

নিউজ ডেস্ক : ঢাকা কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পাঁচ দিন পর ভারতের গুলশান কুমার হত‌্যা মামলার দণ্ডিত আসামি আবদুল রউফ মার্চেন্ট ওরফে দাউদ মার্চেন্টের ঠাঁই হয়েছে মুম্বাইয়ের কারাগারে। মুম্বাই হাইকোর্টের নির্দেশে পুলিশ শুক্রবার দাউদ মার্চেন্টকে দায়রা আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

ভারতীয় গণমাধ‌্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ইন্টারপোলের মধ‌্যস্থতায় দুই দেশের সরকারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মধ‌্য দিয়ে দাউদ ইব্রাহিমের হস্তান্তরপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তবে এ বিষয়ে ভারতের সরকারি ভাষ‌্য ভিন্ন। বাংলাদেশ সরকারও বিষয়টি স্পষ্ট করেনি।

ভারতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টার সময় বিএসএফের হাতে আটক হন এই ফেরারি আসামি। তারপর তাকে পুলিশের মাধ‌্যমে আদালতে তোলা হয়। মুম্বাই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের যুগ্ম কমিশনার সঞ্জয় সাক্সেনাকে উদ্ধৃত করে ভারতের ইংরেজি দৈনিক হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ দাউদ মার্চেন্টকে মেঘালয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করেছে। তাকে নিজেদের কাস্টডিতে নেওয়ার জন্য বুধবারই মেঘালয়ে হাজির হয়েছিল মুম্বাই ক্রাইম ব্র্যাঞ্চের একদল কর্মকর্তা। মেঘালয় থেকে বৃহস্পতিবার তাকে মুম্বাইয়ে নেওয়া হয়েছে।

গত ৩ নভেম্বর দাউদ মার্চেন্টকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন বাংলাদেশের আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম এ কে এম মঈন উদ্দিন সিদ্দিকী এ আদেশ দেন। এরপর ৬ নভেম্বর বিকেলে দাউদ মার্চেন্টকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে সোমবার (৭ নভেম্বর) সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কর্নেল ইকবাল হাসান।

সোমবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, মুক্তি পাওয়ার পর দাউদ মার্চেন্ট বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারিতে নেই এবং তাকে পুশব্যাক করার দরকার নেই। তার ব্যাপারে যা করার ভারতীয় দূতাবাস করবে। দাউদ মার্চেন্ট ভারতের বিখ্যাত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান টি সিরিজের কর্ণধার গুলশান কুমার হত্যা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামি। ১৯৯৭ সালের ১২ আগস্ট গুলশান কুমারকে মুম্বাইয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়।

২০০৯ সালের ২৭ মে দাউদ মার্চেন্টকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এক সহযোগীসহ গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তখন জাল পাসপোর্ট তৈরি ও অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। প্রায় পাঁচ বছর কারাগারে থাকার পর ২০১৪ সালের ১৯ নভেম্বর দাউদ মার্চেন্ট জামিন পান। ওই বছরের ১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে পরের দিনই (২ ডিসেম্বর) ৫৪ ধারায় দাউদ মার্চেন্টকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দাউদ মার্চেন্টকে কারাগারে পাঠানো হয়। তখন আদালতে দেওয়া ডিবি পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করায় দাউদ মার্চেন্টকে আটক করা হয়। তার সঙ্গে কোনো পাসপোর্ট বা ভিসা ছিল না। পুলিশের ধারণা, বাংলাদেশে কোনো অপরাধ সংঘটন করতে বা ভারতে বড় কোনো অপরাধ করে দাউদ মার্চেন্ট বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।

basic-bank

Be the first to comment on "মুম্বাইয়ের কারাগারে দাউদ মার্চেন্ট"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*